বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • ইসরো থেকে শতাধিক বিজ্ঞানীর গণপদত্যাগ; লাগাম টানতে কঠোর নিয়ম জারি

    ইসরো থেকে শতাধিক বিজ্ঞানীর গণপদত্যাগ; লাগাম টানতে কঠোর নিয়ম জারি
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) গগনযানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির মহাকাশ বিভাগ (ডিওএস)। জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পগুলোর কাজ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য ইস্তফা ও অবসরের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    গত ১৪ জুলাই মহাকাশ বিভাগের পক্ষ থেকে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপিতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, গগনযান বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন এখন থেকে সরাসরি গ্রহণ করা যাবে না।

    ইসরো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও সংস্থাটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন বিজ্ঞানী প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন। এতে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছে মহাকাশ বিভাগ।

    সূত্র অনুযায়ী, ভারতের প্রধান রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (ভিএসএসসি) থেকে প্রায় ২০ জন এবং ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি) থেকে প্রায় ৮০ জন বিজ্ঞানী পদত্যাগ করেছেন।

    পদত্যাগকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ভিএসএসসির এলভিএম-৩ রকেট প্রকল্পের পরিচালক ভিক্টর জোসেফ এবং ইউআরএসসির স্প্যাডেক্স (SpaDeX) প্রকল্পের পরিচালক উল্লেখযোগ্য।

    এ ছাড়া চন্দ্রযান-৩ মিশনের সিমুলেশন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আদিত্য রাল্লাপাল্লিও সম্প্রতি ইসরো ছেড়েছেন। চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদে অবতরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যাচাইয়ে তার নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছিল।

    মহাকাশ বিভাগের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গগনযান ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ ‘এ’ পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি কর্মকর্তাদের পদত্যাগ এবং স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গগনযান বা বড় কোনো মিশনের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ বা অবসরের আবেদন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিচালকরা সরাসরি অনুমোদন করতে পারবেন না। এসব আবেদন এখন মহাকাশ বিভাগের কাছে পাঠাতে হবে এবং পরিচালকের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এর আগে ২০২০ সালের একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরোর কেন্দ্র পরিচালক ও ইউনিট প্রধানদের গ্রুপ ‘এ’ বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ও স্বেচ্ছা অবসর অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশনায় সেই ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।

    তবে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বিষয়টিকে বড় সংকট হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের চলে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। নতুন নির্দেশনার উদ্দেশ্য কাউকে আটকে রাখা নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেন হঠাৎ বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করা।

    তিনি আরও বলেন, কেউ চলে গেলে তার দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৭০০ কর্মী ইসরো ছেড়েছেন। বর্তমানে সংস্থাটিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ হাজার ৬০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। পাশাপাশি নতুন করে ১ হাজার ৫০টি বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়োগের মাধ্যমে জনবল ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হলেও অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের বিকল্প তৈরি করা কঠিন। বিশেষ করে গগনযানের মতো জটিল মানববাহী মহাকাশ মিশনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ গবেষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন