বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

কোটা আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়, বিশ্বমিডিয়ার চোখে বাংলাদেশ

কোটা আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়, বিশ্বমিডিয়ার চোখে বাংলাদেশ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ফিরে দেখা জুলাই। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত একটি দিন। দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন তখন চরম উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে। পরদিন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার আগে দেশ-বিদেশের কোটি মানুষের নজর ছিল বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে। আগের দিনের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা এবং সারা দেশে বিক্ষোভের জেরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স সেদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে। আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘Bangladesh Students Defy Orders, Occupy Universities as Tensions Spiral’— যেখানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও বাড়তে থাকা উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরা হয়।

একই সময়ে বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দেয় ‘Deadly Unrest Over Job Quotas Grips Bangladesh’। প্রতিবেদনে চাকরির কোটা ঘিরে সহিংসতা, প্রাণহানি এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সও পরিস্থিতির ধারাবাহিক আপডেট প্রকাশ করে। তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘Bangladesh Shuts Universities, Colleges Indefinitely But Protests Mount’, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্তের পরও আন্দোলন অব্যাহত থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

শুধু এই তিন গণমাধ্যম নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ভয়েস অব আমেরিকা, জার্মানির ডয়চে ভেলে, যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান, তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সিসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ নিয়মিত প্রচার করে।

প্রতিবেশী ভারতের এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য টেলিগ্রাফ ও ডেকান হেরাল্ডও আন্দোলন, সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। পাকিস্তানের ডন-এও এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

মূলধারার সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাংলাদেশের কোটা আন্দোলন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ #QuotaReformProtest, #QuotaMovement এবং #StudentsUnderAttack হ্যাশট্যাগ বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ডিংয়ে উঠে আসে।

বাংলাদেশের আন্দোলনের ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে। ফলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলো শুধু দেশের রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক সংবাদ অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন