বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

হামলার সক্ষমতা বজায় রেখেও সংলাপের পথে যুক্তরাষ্ট্র

হামলার সক্ষমতা বজায় রেখেও সংলাপের পথে যুক্তরাষ্ট্র
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও সামরিক প্রস্তুতি অক্ষুণ্ন রেখে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পর্দার আড়ালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, পরিস্থিতি আরও জটিল না করতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সীমিত সামরিক পদক্ষেপের পর বিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য হামলার জন্য বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলে সেগুলো ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে শুক্রবার রাতেই নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আরব সাগরে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ অবস্থানরত যুদ্ধবিমানগুলোকে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পাইলটরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

রণতরিটির অধিনায়ক নাবিকদের উদ্দেশে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকা জরুরি। এটি সামরিক বাহিনীর স্বাভাবিক প্রস্তুতির অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো প্রতিদিন প্রতিরক্ষামূলক টহল ও নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালিয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

তাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প খোলা থাকলেও আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায় ওয়াশিংটন।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আলোচনা চলাকালে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন দফায় পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি এবং মধ্যস্থতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ, দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে বলে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক হামলায় আরও আট ইরানি সেনার মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।


সূত্র: সিএনএন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন