কাল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, এরপর চার দিনের চীন সফর

সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে আগামীকাল রোববার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষে তিনি চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাবেন। এই সফরে দুই দেশের সঙ্গে অন্তত দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ, শিক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের কারণে ২০২৪ সালের জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে।
সফরে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি, কৃষি, হালাল খাদ্যশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, সুনীল অর্থনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবন ইস্কান্দারের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি পেট্রোনাস, এয়ারএশিয়া ও এমএমসি পোর্ট গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
চীন সফরে সই হবে ১৯টি চুক্তি ও সমঝোতা
২২ জুন মালয়েশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক এবং তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা
বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণ
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ
জ্বালানি খাত উন্নয়ন
মানবসম্পদ উন্নয়ন
বৃত্তিমূলক শিক্ষা
মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ
বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (GDI)
কৃষিপণ্য, বিশেষ করে কাঁঠাল রপ্তানি
এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর মধ্যেও কয়েকটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক
চীন সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একটি যৌথ ইশতেহার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে। বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির পর এটি হবে তৃতীয় যৌথ ইশতেহার।
এছাড়া তিনি ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের বার্তা
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে তারা মনে করেন, সফরের মাধ্যমে এমন কোনো বার্তা দেওয়া উচিত নয় যাতে বাংলাদেশকে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হিসেবে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সফর শেষে ২৬ জুন রাতে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।