রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রোববার নারায়ণগঞ্জের ৫ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না মার্কিন হামলাকে শান্তিচুক্তির লঙ্ঘন বলছে ইরান আইসিসিকে ১৪ পাতার চিঠিতে কী লিখেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল? ফেসবুক পোস্টে রহস্যময় বার্তা দিলেন মাহফুজ আলম এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা, ১৫ বছর পর নবায়ন বাধ্যতামূলক! হরমুজে ট্যাংকারে হামলার পর নতুন করে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া-চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য বন্ধু: শফিকুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সফরে দেশ ও জনগণের স্বার্থই ছিল অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
  • পাঁচ মাসে দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার

    পাঁচ মাসে দেশে ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসে দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শুধু গত দুই সপ্তাহেই ধর্ষণের পর অন্তত চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, জবাবদিহি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নির্যাতন কমানো কঠিন। তাদের ভাষ্য, শিশুদের নিরাপত্তা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমাজের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। এ পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষায় আলাদা কমিশন গঠনের দাবি তুলেছেন তারা। পাশাপাশি ধর্ষকদের শুধু আইনের আওতায় আনা নয়, সামাজিকভাবেও চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্লেষকরা।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় শিশু নীতিতেও শিশুদের সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন বিকাশকে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিও রয়েছে বাংলাদেশের।

    তবে বাস্তব চিত্র উদ্বেগজনক। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে আরও ৪৬ শিশু। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অন্তত ১৭ শিশুকে। প্রতিটি ঘটনাই একটি শিশুর জীবনের নির্মম সমাপ্তি, একটি পরিবারের গভীর বেদনা এবং সমাজে বাড়তে থাকা নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি।

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম আতিকুর রহমান বলেন, বিদেশে এ ধরনের অপরাধপ্রবণ মানসিকতার মানুষদের সামাজিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। ফলে শিশুরা ক্রমেই অনিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে।

    তিনি আরও বলেন, সমাজে মৃত্যুকে এখন অনেকটাই সাধারণ ঘটনায় পরিণত করা হয়েছে। এই উদাসীন মানসিকতা অপরাধপ্রবণ মানুষদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে এবং অপরাধ সংঘটনকে সহজ করে দিচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের একক দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে সমাজের নৈতিক অস্তিত্বও জড়িত। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা ও অগ্রাধিকার ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, শিশু সুরক্ষার জন্য আলাদা ‘চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশন’ গঠন করা জরুরি। এই কমিশন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে পারে এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করতে পারে। তার মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে শিশু সুরক্ষার বিষয়টি এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

    জাতীয় নির্বাচনের আগে ইউনিসেফের শিশু অধিকারভিত্তিক ইশতেহারে দেশের ১২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও, বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড ও চিন্তায় শিশু সুরক্ষার প্রতিফলন কতটা রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন