মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

সফল পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দোয়া ও আমলের ভূমিকা

সফল পরীক্ষার প্রস্তুতিতে দোয়া ও আমলের ভূমিকা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে এক ধরনের মানসিক চাপ বা ‘এক্সাম ফোবিয়া’ কাজ করে। সিলেবাস শেষ করা, রিভিশন দেওয়া এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ইসলামি স্কলারদের মতে, কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা এবং নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও আমল একজন শিক্ষার্থীকে মানসিকভাবে শক্তিশালী রাখে।


পরীক্ষার আগের ও পরীক্ষার হলের দুয়া

১. আত্মবিশ্বাস ও মুখস্থ রাখার জন্য (হযরত মুসা আ.-এর দুয়া): প্রশ্নোত্তর ভুলে গেলে বা ঘাবড়ে গেলে এই দুয়াটি পাঠ করুন। এটি জিহ্বার জড়তা কাটায় এবং মেধা পরিষ্কার করে।

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي

উচ্চারণ: রব্বিশরাহলী সদরী, ওয়া ইয়াসসিরলী আমরী, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানী, ইয়াফকাহু কওলী।

অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সূরা ত্বহা: ২৫-২৮)

২. জ্ঞান বৃদ্ধির দুয়া: পড়ার সময় বা পড়ার শুরুতে এটি বেশি বেশি পাঠ করবেন।

رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا

উচ্চারণ: রব্বি জিদনী ইলমা।

অর্থ: ‘হে আমার পালনকর্তা! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।’ (সূরা ত্বহা: ১১৪)

৩. কঠিন কাজ সহজ হওয়ার দুয়া: পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন মনে হলে বা কোনো উত্তর মনে না পড়লে এটি পড়ুন।

اللَّهُمَّ لاَ سَهْلَ إِلاَّ مَا جَعَلْتَهُ سَهْلاً وَأَنْتَ تَجْعَلُ الحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلاً

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলা, ওয়া আনতা তাজআলুল হাজনা ইযা শি’তা সাহলা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি চাইলে কঠিন কাজকেও সহজ করে দিতে পারেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)


ভালো ফলাফলের জন্য কিছু আমল

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো আল্লাহর সাহায্য। তাই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করুন।

  • তাহাজ্জুদ নামাজ: সম্ভব হলে শেষ রাতে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ফলাফল ও মেধার জন্য দুয়া করুন। কারণ, শেষ রাতের দুয়া কবুল হয়।

  • বেশি বেশি দরুদ শরীফ: পড়ার সময় বা হলের ভেতরে দরুদ শরীফ পাঠ করলে মনে প্রশান্তি আসে এবং ভুলে যাওয়া বিষয় মনে পড়ে।

  • বাবা-মায়ের দুয়া: পরীক্ষার আগে অবশ্যই বাবা-মায়ের কাছে দুয়া চাইবেন। সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের দুয়া সরাসরি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।

  • ইস্তিগফার করা: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বেশি বেশি পড়ুন। এটি গুনাহ মাফের পাশাপাশি রিজিক ও বরকত বৃদ্ধি করে।


একটি বিশেষ টিপস

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, দুয়া তখনই বেশি কার্যকর হয় যখন তার পেছনে সঠিক চেষ্টা থাকে। তাই নিয়মিত সিলেবাস শেষ করা, রিভিশন দেওয়া এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার করার পর আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা উচিত।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন