সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

উচ্চমাত্রার চিনি কি কমিয়ে দিচ্ছে পুরুষ হরমোন?

উচ্চমাত্রার চিনি কি কমিয়ে দিচ্ছে পুরুষ হরমোন?
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কেবল ওজন বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং এটি পুরুষদের প্রধান হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রাও সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ২০১৩ সালে বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী Clinical Endocrinology-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি খাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন লেভেল গড়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। গবেষণার এই তথ্যটি পুরুষদের হরমোনাল স্বাস্থ্য রক্ষায় নতুন চিন্তার খোরাক দিচ্ছে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছিল ৭৪ জন পুরুষের ওপর। তাঁদের প্রত্যেককে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ (OGTT বা ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্টের সমপরিমাণ) দেওয়া হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়:

  • দ্রুত প্রভাব: গ্লুকোজ গ্রহণের মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

  • স্থায়িত্ব: এই হরমোনাল ঘাটতি বা কমার প্রবণতা প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

  • সবার জন্য সমান: অংশগ্রহণকারী সুস্থ হোন কিংবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত—উভয় ক্ষেত্রেই চিনির এই নেতিবাচক প্রভাব একই রকম দেখা গেছে।

কেন এমন হয়? (শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া)

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে শরীর দ্রুত ইনসুলিন নিঃসরণ করে। এই উচ্চমাত্রার ইনসুলিন সাময়িকভাবে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া হঠাৎ ব্লাড সুগার বেড়ে আবার দ্রুত কমে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে “Sugar Crash” বলা হয়। এর ফলে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং বারবার মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের হরমোনাল ব্যালেন্স নষ্ট করে দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি বনাম সাময়িক পরিবর্তন

গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, একবার চিনি খাওয়া মানেই স্থায়ীভাবে হরমোন কমে যাওয়া নয়। তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন কেউ প্রতিদিন অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি পানীয় পান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাস চললে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং মেটাবলিক সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে টেস্টোস্টেরন লেভেলকে চিরস্থায়ীভাবে কমিয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ: সচেতনতাই সমাধান

হরমোনাল হেলথ সুরক্ষিত রাখতে চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

১. প্যাকেটজাত পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি ডেজার্ট এড়িয়ে চলা।

২. প্রাকৃতিক শর্করা যেমন ফলমূলের দিকে ঝুঁকা।

৩. খাদ্যের পুষ্টিগুণ যাচাই বা লেবেল দেখে চিনি নির্বাচনের অভ্যাস করা।

তথ্যসূত্র:

  • Clinical Endocrinology (2013)

  • Harvard Health Publishing

  • American Diabetes Association (ADA)


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন