সাইবার সুরক্ষায় নতুন সংস্কারমূলক আইন আনছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ মোট ৯৮টি অধ্যাদেশ পরিবর্তন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব অধ্যাদেশ নাগরিক সুরক্ষা ও বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। পরে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আইনে রূপান্তরের জন্য বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশও রয়েছে।
এই অধ্যাদেশে হ্যাকিং, অননুমোদিত ডিভাইসে প্রবেশ, অনলাইন প্রতারণা, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, রিভেঞ্জ পর্নোসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী আইনগুলোর মতো সরকারপ্রধান বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার জন্য শাস্তির কোনো বিধান এতে রাখা হয়নি।
এছাড়া ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর কটূক্তির অভিযোগে কাউকে কারাগারে যেতে হয়নি, যা এ আইনের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি ও দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে মামলার নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পাচ্ছেন।
একই সঙ্গে বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক আদালত চালু হওয়ায় দ্রুত বিচার ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান নিশ্চিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব অধ্যাদেশ স্থায়ী আইনে পরিণত হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।