বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

অতিরিক্ত শাসন, শিশুর স্বাধীনতা নষ্ট করছে কি?

অতিরিক্ত শাসন, শিশুর স্বাধীনতা নষ্ট করছে কি?
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রত্যেক বাবা-মা চান তার সন্তান সুশৃঙ্খল এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। কিন্তু এই ‘আদর্শ’ বানানোর প্রক্রিয়ায় অনেক সময় শাসনের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অতি-শাসন বা ‘হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং’ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শৃঙ্খলার নামে মাত্রাতিরিক্ত কঠোরতা শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাকে বিদ্রোহী বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

শাসনের আড়ালে হারানো আত্মবিশ্বাস

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু সার্বক্ষণিক কড়া শাসনের মধ্যে বড় হয়, তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা লোপ পায়। সারাক্ষণ ‘এটা করো না’, ‘ওটা করা যাবে না’—এমন নিষেধাজ্ঞার ফলে শিশু নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। বড় হয়ে তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগে জড়তা অনুভব করে।

অতিরিক্ত শাসনের ভয়াবহ ৩টি প্রভাব

১. মিথ্যা বলার প্রবণতা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত শাস্তির ভয়ে শিশুরা সত্য গোপন করতে শেখে। শাসনের হাত থেকে বাঁচতে তারা নিয়মিত মিথ্যা বলার আশ্রয় নেয়, যা পরবর্তীতে তাদের চরিত্রে স্থায়ী রূপ নিতে পারে।

২. আক্রমণাত্মক আচরণ বা চরম অন্তর্মুখিতা: কঠোর শাসন অনেক সময় শিশুকে জেদি ও বিদ্রোহী করে তোলে। তারা ছোটখাটো বিষয়েও বড়দের মতো আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করে। আবার অনেক শিশু চরমভাবে গুটিয়ে যায়, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা (Depression) বা সামাজিক ভীতি (Social Anxiety) তৈরি হতে পারে।

৩. সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়া: ভুল করার ভয়ে শিশু নতুন কিছু করার সাহস পায় না। ফলে তাদের সৃজনশীলতা এবং কৌতূহল অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ না দিলে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ থমকে যায়।


বিশেষজ্ঞের অভিমত: শাসন নয়, হোক বন্ধুত্ব

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক জানান, “শাসন মানেই কঠোরতা নয়। শিশুকে শৃঙ্খলায় আনতে হলে আগে তার মনের কথা শুনতে হবে। ভয়ের বদলে সম্মানের সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি। অতিরিক্ত শাসন আসলে শাসনের উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দেয়।”

বাবা-মায়ের জন্য করণীয়

  • সহমর্মিতা: শিশুর ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আগে তার প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করুন।

  • প্রশংসা: ছোটখাটো ভালো কাজের জন্য শিশুর প্রশংসা করুন। এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

  • সীমানা নির্ধারণ: নিয়ম থাকবে, তবে তার যৌক্তিক কারণ শিশুকে বুঝিয়ে বলুন।

  • কোয়ালিটি টাইম: দিনের কিছুটা সময় ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রেখে সন্তানের সাথে গল্প করুন বা খেলুন।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন