বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • দুঃশ্চিন্তার কারণে ঘুম হারাচ্ছে মানুষ, নারীর ঝুঁকি বেশি

    দুঃশ্চিন্তার কারণে ঘুম হারাচ্ছে মানুষ, নারীর ঝুঁকি বেশি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আধুনিক নাগরিক জীবনের অন্যতম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ইনসোমনিয়া’ বা অনিদ্রা। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন (National Sleep Foundation)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগই হলো মানুষের দ্রুত ঘুমানোর পথে প্রধান অন্তরায়। কেবল ঘুমাতে দেরি হওয়া নয়, বরং মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া এবং পুনরায় ঘুমাতে না পারার পেছনেও দায়ী এই ‘মানসিক চাপ’।

    অতিরিক্ত চিন্তা ও অনিদ্রার সম্পর্ক

    গবেষণায় দেখা গেছে, যখন একজন মানুষ কোনো বিষয় নিয়ে বারবার চিন্তা করতে থাকেন (যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘Rumination’ বলা হয়), তখন মস্তিষ্কের স্নায়বিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA)-এর তথ্যমতে, এই দুশ্চিন্তার ফলে শরীর থেকে স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সরাসরি ঘুমের মান কমিয়ে দেয়। যদিও অনেকে মনে করেন দুশ্চিন্তার কারণে প্রতি রাতে নির্দিষ্টভাবে ২–৪ ঘণ্টা ঘুম নষ্ট হয়, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। একে নির্দিষ্ট ফ্রেমে না বেঁধে বরং অনিদ্রার একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা উচিত।

    নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও কারণ

    স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে অনিদ্রা ও উদ্বেগের প্রবণতা কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা যায়। এর পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:

    • হরমোনজনিত পরিবর্তন: শারীরিক ও হরমোনগত চক্রের প্রভাব ঘুমের ওপর সরাসরি পড়ে।

    • পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপ: ঘর এবং বাইরে উভয় দিকের দায়িত্ব পালনের মানসিক চাপ অনেক সময় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

    • অতিরিক্ত বিশ্লেষণ: কোনো সমস্যা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করার প্রবণতা নারীদের ঘুমের গুণগত মান কমিয়ে দেয়।

    বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: সুস্থ ঘুমের তিন চাবিকাঠি

    অনিদ্রার এই চক্র থেকে বের হয়ে আসতে গবেষকরা জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন:

    ১. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত ধ্যান (Meditation) বা ইয়োগার মাধ্যমে মনকে শান্ত রাখা।

    ২. নির্দিষ্ট রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা।

    ৩. স্ক্রিন টাইম কমানো: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা।

    ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও বিষণ্নতার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই অনিদ্রা যদি প্রকট আকার ধারণ করে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ