বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম ৮০% বৃদ্ধি, এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ

বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম ২৫ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বড় হারের মূল্যবৃদ্ধি ‘অযৌক্তিক’ এবং দেশের এভিয়েশন শিল্পের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২.৪১ টাকা থেকে ২০২.২৯ টাকায় বৃদ্ধি করা হবে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ৮৯.৮৮ টাকা বা ৮০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি। কলকাতা, দুবাই, দোহা, মাস্কাট, সিঙ্গাপুর এবং জেদ্দায় জেট ফুয়েলের দাম বাংলাদেশ থেকে অনেক কম। এওএবি মহাসচিব এবং নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, এভাবে চললে এয়ারলাইন্স ব্যবসা বন্ধের মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। মার্চের প্রথম ২২ দিনে ২৫টি তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় বৃদ্ধি করা যৌক্তিক নয়।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ভারত ও নেপাল দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, পাকিস্তানে ২৪.৪৯ শতাংশ ও মালদ্বীপে ১৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে ২৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ খালাস হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ ২৫ মার্চের মধ্যে পৌঁছাবে।