মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডেঙ্গু-হামের প্রকোপে উদ্বেগ, ২৪ ঘণ্টায় ১৭ মৃত্যু ও হাসপাতালে ৩,৩৬৬ জন আশরাফুলের বিদায়ে দলে বড় প্রভাব পড়বে না, মনে করেন শান্ত উইন্ডোজ ১১ থেকেই চালান স্মার্টফোন, যেভাবে চালু করবেন ফোন লিংক পিছিয়ে গেল এইচএসসির ফল প্রকাশ, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান আইজিপির বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর কী হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা শাড়ি বিতর্কে তিন মামলা, ‘সোলজার’ নিয়েও অনিশ্চয়তা—চাপে তানজিন তিশা পাঁচ কোম্পানির নামমাত্র নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা জ্বালানি, রেল ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
  • ছেলের মৃত্যুতে মেলেনি ছুটি: নির্বাচন ডিউটির চাপে এক পুলিশ বাবার আহাজারি

    ছেলের মৃত্যুতে মেলেনি ছুটি: নির্বাচন ডিউটির চাপে এক পুলিশ বাবার আহাজারি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কর্তব্যের কঠোর শৃঙ্খল যখন মানবিকতাকে হার মানায়, তখন জন্ম নেয় এক করুণ আখ্যান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসানের একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমবেদনার সৃষ্টি হয়েছে। মেহেদী হাসানের অভিযোগ, তার শিশু সন্তান গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বারবার আবেদন করার পর তাকে ছুটি দেয়নি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তার বদলে অজুহাত দেওয়া হয়েছিল 'নির্বাচনকালীন ডিউটি'র ব্যস্ততাকে।

    মেহেদী হাসান বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। ঠিক সেই মূহুর্তেই মেহেদী হাসানের আদরের ছেলেটি মারা গেছে। বাবার মন যখন সন্তানের লাশের পাশে থাকতে চাইছিল, তখন রাষ্ট্রের নির্দেশে তাকে থাকতে হয়েছে কর্মস্থলে।

    মেহেদী হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তার সন্তানের মারা যাওয়ার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কর্মকর্তারা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। তাদের দাবি ছিল, নির্বাচন সামনে, এই সময়ে কাউকে ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও আবেগীয় সংকটকে উপেক্ষা করা হয়।

    ছেলের মৃত্যুর পর মেহেদী হাসান সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে লেখেন- “ছুটি চাইছিলাম পাইলাম না, আমার ছেলেটা মারা গেল!!! ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ। আমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেতো!! কী জবাব দিবো বউকে???"

    তার এই ছোট কয়টি বাক্য সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, "যে ব্যক্তি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তার নিজের পরিবারের জন্য রাষ্ট্র কি ন্যূনতম মানবিকতা দেখাতে পারে না?"

    এই ঘটনাটি সামনে আসার পর নেটিজেনরা পুলিশ বাহিনীর প্রশাসনিক কাঠামোর কড়া সমালোচনা করছেন। অনেকেই বলছেন, নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একজন বাবার কাছে তার মুমূর্ষু সন্তানের চেয়ে বড় কোনো "ডিউটি" থাকতে পারে না। মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের মতো তৃণমূল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতনদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা।

    নির্বাচন সফল হবে ঠিকই, কিন্তু মেহেদী হাসান হারিয়েছেন তার কলিজার টুকরোকে। এই শোক সম্ভবত কোনো পদক বা রাষ্ট্রীয় ধন্যবাদ দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। এই ঘটনাটি আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন