ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান ট্রাম্পের

বিগত কয়েক বছর ধরেই ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেই চাপ আরও বাড়াতে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে ইরান যেন কোনোভাবেই অর্থনৈতিক সুবিধা না পায়, সে লক্ষ্যেই এই কঠোর অবস্থান।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) শুল্ক আরোপের আদেশে সই করেন ট্রাম্প। তবে আদেশে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশের কথা বলা হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে বিসিবি জানিয়েছে, এটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে কোনো পণ্য ক্রয়, আমদানি করলে বা অন্য কোনো ভাবে পরিষেবা গ্রহণ করা দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ট্রাম্প সরাসরি এই আদেশের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্ব বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।
ওমানে মার্কিন ও ইরানি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নেয়া হলো। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক পোস্টে ট্রাম্প এই বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি লিখেছিলেন, অবিলম্বে কার্যকরভাবে, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সাথে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যেকোনো এবং সমস্ত ব্যবসায়ের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রদান করবে।
সেই সময় শুল্ক কীভাবে বাস্তবে কার্যকর হবে সে সম্পর্কে আর কোনও বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়নি।
এদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, এই সর্বশেষ নির্বাহী আদেশ ইরানের ক্ষেত্রে চলমান জাতীয় জরুরি অবস্থা পুনরায় নিশ্চিত করছে এবং উল্লেখ করছে যে, পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে ট্রাম্প এই আদেশ পরিবর্তন করতে পারেন।
এতে লেখা ছিল, পরমাণু সক্ষমতা অর্জন, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ইরানকে জবাবদিহি করতে বলছেন প্রেসিডেন্ট, যা আমেরিকান নিরাপত্তা, মিত্র এবং স্বার্থকে বিপন্ন করে।
তবে ইরান এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।