শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj

বিদেশ ভ্রমণে অসুস্থতা এড়াতে জরুরি সতর্কতা

বিদেশ ভ্রমণে অসুস্থতা এড়াতে জরুরি সতর্কতা
ছবি- সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বিদেশযাত্রা সবসময় উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের সঙ্গে আসে। তবে প্রথমবার বিদেশে যাওয়া পর্যটকদের ক্ষেত্রে এতে যুক্ত হয় কিঞ্চিৎ ভয় ও উদ্বেগ। এর কারণ রয়েছে – দেশের মধ্যে সমস্যার সমাধান তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও, বিদেশে বিপদ বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

বিদেশে অসুস্থ হলে চিকিৎসা খুঁজে পাওয়া, হাসপাতাল পৌঁছানো এবং ভাষাগত তফাত সামলানো অনেক কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া নতুন দেশের নিয়মকানুন, স্থানীয় রীতি-নীতি ও বৃদ্ধিশীল খরচও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

খুঁটিনাটি জেনে নিন: উদ্দেশ্য ভ্রমণই হোক বা কাজ-ভ্রমণ একই সঙ্গে, যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন। সেখানে কোনও অসুখ বেশি মাত্রায় হয় কি না, বা বিশেষ অসুখের ঝুঁকি রয়েছে কি না জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। বিদেশ ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি, বিশেষত হার্ট, কিডনি, কোলেস্টেরল-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে সতর্ক হতে হবে আরও বেশি। যাওয়ার মাসখানেক আগে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ খান এবং জরুরি ওষুধ গুছিয়ে নিন।

বিপদ বলে আসে না: সতর্কতা সত্ত্বেও কেউ আচমকা অসু্স্থ হতে পারেন। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যখন তখন। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে ভ্রমণ বা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিমা। দেশের স্বাস্থ্যবিমা বিদেশে কাজ করবে না, তখন দরকার হবে এমন বিমার। আন্তর্জাতিক কোনও স্বাস্থ্যবিমা বিদেশে গিয়ে কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার সুবিধা দেয়। এমনকী রোগীকে দেশে ফেরানোর খরচও বহন করে। এই ধরনের বিমার সুবিধা পাওয়া সম্ভব কি না, খোঁজ নিয়ে নিন। সাধ্যের মধ্যে হলে, তেমন কোনও পরিষেবা নিতে পারেন।

জরুরি পরিস্থিতি: জরুরি পরিস্থিতি হতে পারে যে কোনও সময়। সেই কারণে শুধু আসল পরিচয়পত্র নয়, পাসপোর্ট ছবি, জরুরি নথির ফটোকপি সব কিছুই সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। দেশে যে চিকিৎসককে দেখান, তাঁর প্রেসক্রিপশনটি অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। বিশেষ কোনও অসুখ থাকলে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও সঙ্গে রাখা ভাল।

ভ্রমণ বিমা: বিদেশ গেলে ট্রাভেল ইনসিওরেন্স বা ভ্রমণ বিমা করিয়ে নিলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিদেশে গিয়ে জিনিসপত্র খোয়া গেলে, আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে এর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। কোনও কোনও ভ্রমণ বিমায় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবারও সুবিধা মেলে। ‘কভারেজ’ সম্পর্কে জেনে নিয়ে তার পর সুবিধামতো বিমা করান।

বেড়াতে গিয়ে কোনটি করবেন না?

নতুন খাবার: নতুন খাবার খাওয়ার আগে দেখে নিন কী খাচ্ছেন। তার মধ্যে থাকা কোনও উপাদানে আপনার অ্যালার্জি হতে পারে কি না। সাধারণত সামুদ্রিক খাবারে কারও কারও অ্যালার্জি হয়। তাই খাবারটি সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে, তা এড়িয়ে চলা ভাল। সঙ্গে অ্যালার্জির ওষুধ রাখুন।

জল এবং খাবার: দিনভর ঘোরাঘুরির পরিকল্পনা থাকলে কিছু শুকনো খাবার এবং জল সঙ্গে রাখুন। অচেনা, অজানা খাবার রাস্তায় বেড়িয়ে না খাওয়াই ভাল। তা ছাড়া রাস্তার খাবার যদি অপরিচ্ছন্ন হয়, পেটের অসুখ হতে পারে।

হাত ধোয়া: ঘোরাঘুরির সময় হাত প্রচণ্ড নোংরা হয়। তাই অপরিচ্ছন্ন হাতে খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। কারণ, নোংরা হাত থেকে পেটের অসুখ ছড়াতে পারে। সঙ্গে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার রাখুন বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে খান।

অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস: অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস করার আগে তার ঝুঁকিগুলি জেনে নিন। হার্টের সমস্যা, স্নায়বিক অসুখ থাকলে বা ঝুঁকি হতে পারে বুঝলে এই ধরনের ক্রীড়া এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ হয়ে পড়লে, আপনার সঙ্গীদেরও অসুবিধার শেষ থাকবে না।

ওষুধ: দৈনন্দিন ঘোরাঘুরির আনন্দে নিয়ম করে ওষুধ-জল খাওয়ার কথা মাথায় থাকে না। তা থেকেই সমস্যা হতে পারে। বিশেষত রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হার্টের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ থাকলে তা বাদ দিলে বিপদ হতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন