বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • অস্ট্রেলিয়ায় সুরের জাদু ছড়াতে যাচ্ছেন রুনা লায়লা অনুমতি ছাড়া ভিডিও ছড়ালে দ্রুত বিচার: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুঁশিয়ারি সরকারের তাসকিন-মোস্তাফিজ ছাড়া টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন চীনে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত সংরক্ষিত নারী আসনে বাছাই শুরু আজ ‘গুপ্ত’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষ এক বছরের ব্যবধানে আবার বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক সৌদিতে থাকা শর্ত পূরণকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশজুড়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এসএসসি’র প্রথম পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী
  • কৃষি ও শিল্পে বড় ধাক্কা

    লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

    লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে লোডশেডিং পরিস্থিতিতে। এপ্রিলের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা মে-জুনে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াটে। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট। একই দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং পৌঁছায় প্রায় ১ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াটে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দেশের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে—৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যান, এসি ও অন্যান্য কুলিং ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় আবাসিক খাতে বিদ্যুতের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বোরো ধানের সেচ ও শিল্প খাতের চাহিদাও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি)-এর তথ্যে দেখা যায়, দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিনই ১ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে, যা পিক আওয়ারে আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের চিত্রও ভিন্ন। রাজধানী ঢাকায় দৈনিক গড়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও অনেক জেলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। বরিশাল অঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। রাজশাহী ও খুলনায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা, চট্টগ্রামের গ্রামীণ এলাকায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, আর কিছু এলাকায় ১৬ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও ঘটছে।

    ঢাকার বাইরে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে দিনে ৫ থেকে ৭ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর অঞ্চলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে মানুষকে। বিদ্যুৎ সরবরাহের বড় অংশ ঢাকায় দেওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতির কারণে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গার্মেন্টস, তাঁত শিল্প ও ক্ষুদ্র কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। বোরো মৌসুমে সেচ পাম্প চালাতে না পারায় কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সামনের মাসগুলোতে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন