বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ছড়ালে দ্রুত বিচার: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুঁশিয়ারি সরকারের

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ছড়ালে দ্রুত বিচার: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুঁশিয়ারি সরকারের
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় কারও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের আওতায় দ্রুত বিচার করা হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, ব্লগার ও সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারও মামলা করতে পারবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ জবাব দেন।

জবাবে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ইতোমধ্যে আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১০ এপ্রিল সংসদে পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্নো বা সেক্সটরশন সংক্রান্ত ডিজিটাল অপরাধকে কঠোরভাবে দণ্ডনীয় করা হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিও, ছবি বা তথ্য প্রকাশ, প্রচার কিংবা হুমকি দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব মামলার তদন্ত ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।

আইনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে নারী বা ১৮ বছরের নিচে কেউ ভুক্তভোগী হলে শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাঁদা দাবি বা অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে ধারা ২২ অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে তা অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখবে। পাশাপাশি বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে।

জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার নিয়মিতভাবে সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে কাজ করবে। জরুরি পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।

আইনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, একটি শক্তিশালী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গঠন করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে সব ধরনের অনলাইন অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করবে। বিদেশ থেকে সংঘটিত অপরাধেও এ আইন প্রয়োগযোগ্য হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও বিচার সম্ভব হবে।

এ ছাড়া মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করলে মূল অপরাধের সমান শাস্তি তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
সরকার জানিয়েছে, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, ক্লাউডভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক থ্রেট ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ