৪৮ ঘণ্টার অভিযানে পাকিস্তানে ১৭৭ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানে আরও ২২ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত দুই দিনে নিহত সন্ত্রাসীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে। প্রদেশজুড়ে সমন্বিত হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, গত শনিবার প্রদেশজুড়ে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালায়। এসব হামলার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শনিবারই ১৫০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়।
পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার পেছনে ভারতের ভূমিকার বিষয়টি সামনে এনেছে ইসলামাবাদ।
এদিকে গত শনিবারের ওই হামলার পর প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ রোববার রাতভর চালানো এসব তল্লাশি অভিযানে আরও ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে টানা তৃতীয় দিনের মতো বেলুচিস্তানের কোয়েটা ও অন্যান্য শহরে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শনিবার থেকে মোবাইল ডাটা পরিষেবা স্থগিত রয়েছে। বেলুচিস্তানের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র) হামজা শাফকাত জানান, সোমবারও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে, তবে মঙ্গলবার পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এর আগেও বেলুচিস্তানে ইন্টারনেট বন্ধ করেছে সরকার। গত নভেম্বর মাসে প্রদেশটির ৩৬টি জেলায় প্রায় এক সপ্তাহ মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
এদিকে রোববার গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, প্রদেশজুড়ে সমন্বিত হামলার পর সন্ত্রাস নির্মূলে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, শনিবারের হামলার পর বেলুচিস্তানে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে গত শনিবার ভোরে একাধিক সন্ত্রাসী সেল বেলুচিস্তানের ১০টির বেশি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা। এই হামলায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীও ছিল এবং তাদের মধ্যে নারী সন্ত্রাসীর উপস্থিতির কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার সময় প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র গোলাগুলি হয়। এই সংঘর্ষে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। হামলা কমে এলে বিভিন্ন শহর, জনপদ ও গ্রামীণ এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করতে নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করে।
দৈএনকে/জে, আ