শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ঢেউ, সূচক ও বাজার মূলধনে উত্থান

গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে দৃশ্যমান উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর বাজার মূলধনে পড়েছে। বাজার মূলধন এক সপ্তাহের মধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেয়ারবাজারের মূল্যসূচকেও বড় উত্থান দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারে সঞ্চিত মূলধনের বৃদ্ধির প্রতিফলন। এ ছাড়াও দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বাজারের সক্রিয়তা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে এই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি লাভজনক সুযোগ তৈরি করবে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩০৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টির দাম কমেছে এবং ৩৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, দাম কমার তুলনায় দাম বাড়ার তালিকায় ৭ দশমিক ৫৪ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা বা দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে প্রধান মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১৪০ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৩৯ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৯ শতাংশ।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ২৯ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ১২ শতাংশ।
এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৫৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৮০ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৯৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বা ৫১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক।
এছাড়া, লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ফাইন ফুডস, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, লাভেলো আইসক্রিম এবং খান ব্রদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।