হৃদ্স্বাস্থ্যের সহায়ক খাবার কাজুবাদাম

হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্যগত উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উপসর্গ অবহেলিত হলে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
সম্প্রতি হৃদ্স্বাস্থ্যের সঙ্গে কাজুবাদামের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। পুষ্টিবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজুবাদামে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সহায়ক হতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।
ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এ ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাজুবাদাম গ্রহণ করলে ধমনীর নমনীয়তা বজায় থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হতে পারে। গবেষকরা জানান, এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রমকে সহায়তা করে এবং ধমনীর কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেলবেলায় নাস্তা হিসেবে অল্প পরিমাণে (প্রায় পাঁচটি) কাঁচা ও লবণবিহীন কাজুবাদাম গ্রহণ হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ বা ভাজা ও লবণযুক্ত কাজুবাদাম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিবিদদের মতে, হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা জরুরি। কাজুবাদাম হতে পারে সেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি অংশ।
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখা দীর্ঘায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপনই হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
দৈএনকে/ জে,আ