মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে, দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে, দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশজুড়ে তীব্র শীতে কাঁপছে মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করা ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আবহাওয়া অধিদপ্তর দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থার মতে, গত ৭৩ বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।

সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ জানান, রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিসেম্বর ছিল মাত্র ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৮ ডিগ্রি। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র ১.৭ ডিগ্রি, যা দেশের আবহাওয়ার ইতিহাসে বিরল। এরপর থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২–১৩ ডিগ্রি কমে যাচ্ছে।

ড. রশিদ বলেন, এ ধরনের ঘন কুয়াশা সাধারণত দু-তিন দিন থাকে, কিন্তু এবার দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই অবস্থা বিরাজ করছে। দিনের বেলায় সূর্যের আলোও দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে, ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ ডিগ্রি। দেশের ১২ জেলায়—রাজশাহী বিভাগের আট জেলা ও কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও দিনাজপুরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে দেশের কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসে অন্তত পাঁচ দফায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে এক বা দুটি হতে পারে তীব্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮–১০ ডিগ্রি হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬–৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪–৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, আর ৪ ডিগ্রির নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়।

দেশজুড়ে দিনের বেলায় সূর্যের আলো সীমিত থাকায়, ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার সমন্বয়ে মানুষের অনুভূত শীত আরও তীব্র হচ্ছে। আবহাওয়ার এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠার পূর্বাভাস এখনও মেলেনি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ