ধূমপান ছাড়াও কেন অল্প বয়সীদের মধ্যে বাড়ছে ফুসফুস ক্যান্সার

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, ফুসফুসের ক্যান্সার মূলত বেশি বয়সী ও ধূমপায়ী ব্যক্তিদেরই হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। দেখা যাচ্ছে, যুবক-যুবতী এবং যারা কখনো ধূমপান করেননি—তারাও ক্রমবর্ধমান হারে এই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার বৃদ্ধির পেছনে পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ, জিনগত ঝুঁকি, প্যাসিভ স্মোকিং এবং জীবনযাপনের নানা অনিয়ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই কেন অল্প বয়সেই এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, এর প্রাথমিক লক্ষণ কী এবং কীভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব—এসব বিষয়ে সচেতন হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এই রোগ প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।
ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো পরিবেশ দূষণ। মাটি ও পাথরের ইউরেনিয়াম ক্ষয়ে গিয়ে রেডন গ্যাস তৈরি হয়, যা ঘরের বাতাসেও থাকতে পারে। ঘরে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে রেডন শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুসে ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া শহরাঞ্চলে ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM2.5) রয়েছে, যা লাং ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরিবারের কেউ যদি আগে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে জেনেটিক উপাদানের কারণে রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। ধূমপান না করলেও এমন জেনেটিক প্রভাব ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
পরোক্ষ ধূমপান:
পরিবার বা আশেপাশের লোকের ধূমপান থেকে তৈরি ধোঁয়া শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করাও বিপজ্জনক। এতে সিগারেটের টক্সিন শরীরে প্রবেশ করে এবং ফুসফুসের ক্যানসার হতে পারে।
রান্নার ধোঁয়া:
কাঠ বা কয়লা ব্যবহার করে রান্নার ধোঁয়াও ফুসফুসে ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে ঘরে প্রচলিত উনুনে রান্না করা মহিলাদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।
যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হতে হবে:
- দীর্ঘদিন ধরে কাশি যা ভালো হচ্ছে না
- কফে রক্ত বা মরচে ধরণের স্পুটাম
- হাঁটাহাঁটি বা সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি
- বুক ব্যথা বা নিশ্বাস নেওয়ায় কষ্ট
- ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ যা দ্রুত ঠিক হচ্ছে না
- অপ্রত্যাশিত ওজন কমে যাওয়া
- অত্যধিক দুর্বলতা বা শক্তিহীনতা
প্রতিরোধ ও করণীয়:
ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং ধূমপায়ীদের কাছ থেকে দূরে থাকুন
দূষণ বেশি হলে মাস্ক ব্যবহার করুন, ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখুন, এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং প্রতিদিন হালকা হাঁটা‑চলা করুন
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
কোনও উপসর্গ দেখা দিলে তড়িঘড়ি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং ফুসফুস পরীক্ষা করান
কম বয়সেও ফুসফুসের ক্যানসার বাড়ছে তাই অবহেলা না করে সতর্কতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা নিশ্চিত করা এখন অতীব জরুরি।