"/>
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ভয়াবহ ভূমিকম্পেও অটুট মাতৃত্ব, জীবিত উদ্ধার মা ও শিশু সিটি করপোরেশন বাদে বিরোধী আসনে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব চাকরির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা নয়, কর্মসংস্থান তৈরি করবে তরুণরা: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর হারারে টেস্টে বাংলাদেশের হতাশা, বড় লিড গড়ছে জিম্বাবুয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদন কঠিন হচ্ছে? নতুন নীতিতে কী কী বদলাল ইসরায়েল কি হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থন? মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার
  • ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দেশ

    ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে দেশ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা  ও হিমেল বাতাসে সারাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় সন্ধ্যা নামতেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে, যা ভোর পর্যন্ত অনুভূত হয়।

    কুয়াশাচ্ছন্ন  আকাশ, ও হিমেল হাওয়ায় শীত বেড়ে যাওয়ায় ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষরা বিশেষভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন। 

    রাজশাহীতে রবিবার দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ। এরই মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একেবারে কাছাকাছি চলে আসে এ কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু রাজশাহী নয়, রাজশাহীর আশপাশের জেলাসমুহে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন।
    রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সূত্রমতে রবিবার সকাল ৬টায় রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দুপুর ১২টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখা যায় ১৫ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন বেলা তিনটায় রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়া অফিস বলছে, কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ফারাক কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এ ছাড়া উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। এরই মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল রাজশাহীতে।

     শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান ও অটোরিক্সা চালকদের। জেলার আড়ানী থেকে নগরীর বিনোদপুর বাজারে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুর ইমরান আলী বলেন, গায়ে দুই-তিনটা গরম কাপড় পরেও শরীর ঠান্ডায় কাঁপে। একই কথা বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চালক হাতেম আলী। তিনি জানান, শীতের কারণে রাস্তায় মানুষ কমে গেছে। ভোরের দিকে যাত্রী নেই বললেই চলে। আয় কমছে, অথচ ঠান্ডায় গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর।

    সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী জেলা সাড়ে ২৭ হাজার পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকার।
    রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ জানান, বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা শতভাগ থাকায় শীতের প্রকোপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শরীর ঠান্ডা অনুভব করছে।
    নীলফামারী ॥ পৌষের প্রথম পক্ষ না পেরুতেই শীতে জনজীবন রীতিমতো কাহিল। হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু মানুষ ও প্রাণিকুূল। সকালে সূর্যের দেখা মিলছে না। দুপুরে সূর্যের সামান্য রোদের উষ্ণতা জনপদের মানুষের ঠান্ডা নিবারণ হচ্ছে না।
     
     রবিবার  অনেকে মন্তব্য করছেন দার্জিলিংকে টেক্কা দিচ্ছে সমতলের শীত। কুয়াশা যেন টিপটিপ বৃষ্টির আকার ধারণ করেছে।
     বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠেছে।
    বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন এই জনপদ। হিম বাতাসে ঝরছে শীতের পারদ। শহর ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতের তীব্রতায় জর্জরিত শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা। দুর্ভোগে পড়েছে বিভিন্ন গৃহপালিত ও বন্য প্রাণীরাও।

     লাগাতার শীতের কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষদের। কাজকর্ম কমে যাওয়ায় দিন কাটছে অভাব-অনটনের ভেতর। প্রয়োজনের বাইরে শহরের অভিজাত মানুষজন ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে নিম্ন আয়ের মানুষের শীত উপেক্ষা করেই কাজে যেতে হচ্ছে। শীতে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন লোকজন।
    নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হাকিম জানালেন, রবিবার জেলার ডিমলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পার্থক্য মাত্র ৪ ডিগ্রি। এতে তিস্তা নদী বিধৌত ডিমলা উপজেলার চরবাসীসহ লোকালয় বাসিন্দারা কাবু হয়ে পড়েছে।
    চুয়াডাঙ্গা
     জেলায় ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর প্রচণ্ড শীতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষ ণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রবিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ।

    শীতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
    আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান আরও জানান, এখন থেকে এ জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত কমতে থাকবে। সেই সঙ্গে বাড়বে শীত। চলতি মাসের শেষে এবং জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে মাঝারি থেকে তীব্র আকারের  শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
    বরিশাল 
     ঢাকা থেকে বরিশালের মুলাদীগামী যাত্রীবাহী এমভি মহারাজ-৭ লঞ্চ মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। দুর্ঘটনায় লঞ্চের দোতলার বাম পাশের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কমপক্ষে ১০ যাত্রী আহত হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টার দিকে লঞ্চের স্টাফ জাকির হোসেন খান জানিয়েছেন, ঘনকুয়াশার কারণে এমভি মহারাজ-৭ লঞ্চটি চাঁদপুর পার হয়ে মুলাদীর উদ্দেশ্যে আসার সময় সকাল ৯টার দিকে আলু বাজার নামক এলাকায় মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

    লঞ্চের যাত্রী আবু বক্কর ছিদ্দিক জানিয়েছেন, নদীর তীরের কাছাকাছি একটি মালবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চের চালক সেটি দেখতে না পাওয়ায় স্বজোরে ধাক্কা লাগে। এতে লঞ্চের দোতলার পাশের প্রায় ৩০ ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় জিহাদ হোসেন নামের এক শিশু মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এ ছাড়া আবুল কালাম, রহমতউল্লাহ, রাসেদ সরদারসহ প্রায় ১০ জন যাত্রী আহত হয়। পরে লঞ্চের দোতলায় থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে নিচ তলায় নিরাপদ স্থানে চলে আসে। দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে পুনরায় লঞ্চটি যাত্রা শুরু করে বেলা বারোটার দিকে মুলাদীতে এসে পৌঁছেছে।

    মাগুরা তীব্র শীতে জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রবিবার শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেযেছে। সারাদিন সূর্য ওঠেনি। শ্রমজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বেড়েছে। শীতে পুরানো শীতবস্ত্রের বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের প্রধান ডাকঘরের সামনে এবং মাতৃসদন সড়কে বসেছে পুরানো শীতবস্ত্রের বাজার জমে উঠেছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    A PHP Error was encountered

    Severity: Core Warning

    Message: PHP Startup: Unable to load dynamic library 'imap.so' (tried: /opt/alt/php74/usr/lib64/php/modules/imap.so (libc-client.so.2007: cannot open shared object file: No such file or directory), /opt/alt/php74/usr/lib64/php/modules/imap.so.so (/opt/alt/php74/usr/lib64/php/modules/imap.so.so: cannot open shared object file: No such file or directory))

    Filename: Unknown

    Line Number: 0

    Backtrace: