শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

৪০ বছরের পর নারীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে

৪০ বছরের পর নারীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বেশিরভাগ নারী নিজের স্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দেন না। ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলা কিডনির রোগ অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। পা ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ক্ষুধামান্দ্য—এসব উপসর্গ অনেকেই গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ বছরের পর নারীদের মধ্যে কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

কিডনি রোগের প্রধান কারণ

আমেরিকান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড কিডনি ডিজিজ-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, বয়স ৪০-এর পর নারীদের কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এর মূল কারণের মধ্যে অন্যতম হলো নিজের স্বাস্থ্য ও উপসর্গ উপেক্ষা করা। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস, লুপাস নেফ্রাইটিস এবং মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) নারীদের মধ্যে ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস

১. পানি কম পান করা: দীর্ঘদিন পানির অভাবে কিডনি ঠিকমতো টক্সিন বের করতে পারে না।
২. ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া: নিয়মিত ব্যথানাশক কিডনিতে রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়।
৩. প্রস্রাব চেপে রাখা: মূত্রনালি সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে যেতে পারে।
৪. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া: উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির ক্ষতি বাড়ায়।
৫. চিনি ও মিষ্টি বেশি খাওয়া: টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ও কিডনির ক্ষতি বাড়ায়।

সতর্কতার লক্ষণ

রাতে বারবার প্রস্রাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি ভাব, রক্তচাপের ওঠানামা—এসব দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।

কিডনি সুস্থ রাখার পরামর্শ
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মিষ্টিজাতীয়, প্রক্রিয়াজাত ও কার্বোনেটেড খাবার এড়িয়ে চলুন।
দিনে অন্তত ২০ মিনিট শরীরচর্চা করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ইউরিন, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও অ্যালবুমিন পরীক্ষা করান।

সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন