শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় হেফাজতে বন্ধু দীপ মিরাজ-তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এগিয়ে বাংলাদেশ উড্ডয়নের আগে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৮৬ জন তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের আগে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাদেবপুরে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিডিএলজি সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৩১৫
  • "স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানো: চোখ ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখার সহজ উপায়"

    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আজকের ডিজিটাল যুগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি ছাড়া জীবন কল্পনাই করা যায় না। কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন—সবকিছুই স্ক্রিনের সঙ্গে যুক্ত। তবে দৈনিক ৪ ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটালে ধীরে ধীরে তা চোখ, মস্তিষ্ক এবং ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু চোখের ক্লান্তি নয়; দীর্ঘমেয়াদে পুরো স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে।

    চোখে প্রভাব

    পলক কমে যাওয়া: স্ক্রিনে মনোযোগ দিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬০-৬৬% কম পলক ফেলি। এর ফলে চোখ শুকিয়ে যায় এবং ড্রাই আই সিনড্রোম দেখা দেয়।

    ঝাপসা ও ফোকাসের সমস্যা: দীর্ঘক্ষণ একই দূরত্বে তাকালে চোখের পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ৪ ঘণ্টা বা তার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করলে ঝাপসা দেখা, ফোকাস পরিবর্তনে অসুবিধা বা কখনো ডাবল ভিশনও হতে পারে। এ সমস্যাকে বলা হয় অ্যাকমোডেটিভ স্প্যাজম।

    মস্তিষ্ক ও মাথার ওপর প্রভাব

    মাথাব্যথা: চোখ, কপাল ও ঘাড়ে চাপ পড়লে স্ক্রিন-টাইম হেডেক শুরু হয়। স্ক্রিনের ব্লু লাইট চোখের ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।

    ব্রেন ফগ বা মাথা ঝিমুনি: দীর্ঘ সময় তথ্য দেখার ফলে মস্তিষ্ক অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে, কর্টিসল হরমোন বাড়ে, মনোযোগ কমে যায় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়।

    মানসিক ক্লান্তি ও মেজাজ পরিবর্তন

    নিরবচ্ছিন্ন ভিডিও, নোটিফিকেশন ও তথ্যের চাপ ডোপামিন হরমোনের ওঠানামা ঘটায়। ফলস্বরূপ দেখা দেয় অস্থিরতা, বিরক্তি, মন খারাপ এবং অতিরিক্ত মানসিক ক্লান্তি—যাকে বলা হয় ডিজিটাল ফ্যাটিগ।

    ঘুমের সমস্যা

    রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমায়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে, ঘুমের গভীরতা কমে এবং পরদিন শরীর আরও ক্লান্ত থাকে।

    স্ক্রিনের ক্ষতি কমানোর সহজ উপায়

    ডিজিটাল যুগে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে কিছু সচেতন অভ্যাসে ক্ষতি কমানো যায়:

    সাধারণ নিয়ম

    প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর ছোট বিরতি নিন।

    অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখুন।

    ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন।

    চোখ ও মস্তিষ্কের যত্ন

    ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিটে, ২০ ফুট দূরে, ২০ সেকেন্ড তাকান।

    সচেতনভাবে পলক ফেলুন।

    ব্লু লাইট ফিল্টার বা ব্লু কাট চশমা ব্যবহার করুন।

    ঘাড়, কাঁধ ও পিঠ নিয়মিত স্ট্রেচ করুন।

    কাজের ফাঁকে হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।

    সম্ভব হলে প্রাকৃতিক আলোতে কাজ করার চেষ্টা করুন।

    সঠিক অভ্যাস ও সচেতনতা বজায় রাখলে স্ক্রিন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব। ভারসাম্য বজায় রেখে ডিজিটাল জীবনকে আরও নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং স্বস্তিদায়ক করে তোলা যায়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন