সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • র‌্যাবের নতুন মহাপরিচালক হলেন আহসান হাবীব পলাশ ঈদে শ্রমিকদের সুবিধার্থে পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা প্রধানমন্ত্রীর বাতিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা; স্বপ্নভঙ্গ কোটি ভক্তের নগর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ঈদ উপহার শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে, নিবিড় পরিচর্যায় মির্জা আব্বাস দেশের ৫৩ খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
  • কর্মদক্ষ ভ্যাট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, নয়তো মূসক আদায় ব্যর্থ হবে: এনবিআর

    কর্মদক্ষ ভ্যাট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, নয়তো মূসক আদায় ব্যর্থ হবে: এনবিআর
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, দেশের ভ্যাট ব্যবস্থার জটিলতা এবং বিভিন্ন রকমের ভ্যাট রেটের কারণে কাঙ্ক্ষিত মূসক আদায় সম্ভব হচ্ছে না। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে আমদানি নির্ভর হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়ছে। এই চাপ কমাতে সরকারের লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি করা, যার জন্য ভ্যাট ও আয়কর সংগ্রহে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

    তবে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নেট এখনও ছোট থাকার কারণে সমস্যা রয়েছে। চেয়ারম্যান জানান, টার্নওভার সীমা ৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা আনা হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে নতুন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এবার এনবিআর অন্তত ১ লাখ নতুন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। 

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন জটিল হওয়ায় ২০১২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আবার নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই এবার ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে বিভিন্ন হারের পরিবর্তে একক হার বা ‘সিঙ্গেল রেট’ চালুর চেষ্টা করা হবে। ভ্যাট সহজ করা গেলে অটোমেশনও সহজ হবে-কারণ অতিরিক্ত জটিল প্রক্রিয়া মেশিনেও সঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন।

    তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের বুঝতে হবে-ভ্যাট তারা দেন না; এ ভ্যাট দেন ভোক্তারা। তাই পুরো প্রক্রিয়া যান্ত্রিকীকরণ বা অটোমেটেড করা গেলে রাজস্ব সংগ্রহ অনেক বাড়বে। জিডিপির বড় অংশকে এখনো কর-নেটে আনা সম্ভব হয়নি-সে জায়গায় কাজ চলছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানো না গেলে রাষ্ট্রীয় সেবা টেকসই হবে না। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হলে টেকসই রাজস্ব সংগ্রহ অপরিহার্য।

    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট কমপ্লায়েন্সের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বা সফটওয়্যার কেনার সক্ষমতা নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর নিজস্ব সিস্টেম তৈরি করে দেবে। আইন-কানুন সহজ করা গেলে এবং অডিট প্রক্রিয়া ডিজিটাল হলে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। ভ্যাট রিফান্ড অটোমেশন প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে-এটি চালু হলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের সুবিধা হবে।

    তিনি বলেন, অটোমেটেড সিস্টেম থাকার পরও যদি ব্যবহার না করা হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। এসাইকুডা সিস্টেমেও কিছু জটিলতা রয়েছে-এগুলো দূর করা গেলে আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের আর কাস্টমসে ভিড় করতে হবে না।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বর্তমান ডিউটি স্ট্রাকচার রাখা যাবে না। তাই প্রতিবছর শুল্ক কাঠামো কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে কাস্টম হাউজ রাজস্ব আদায়ের চেয়ে নিরাপত্তা ও নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দেবে।

    তিনি আরও জানান, ব্যাংকিং খাত থেকে বড় ধাক্কা এসেছে-করপোরেট ট্যাক্সেও কাঙ্ক্ষিত আদায় হয়নি। বাজেটের আকার ছোট হওয়ায় উন্নয়ন বরাদ্দও কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব অর্জনে। তবুও সব সংকটের মধ্যেও নভেম্বরের শেষে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশের ওপরে থাকবে বলে।

    কর ফাঁকির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে রাজস্ব বিভাগ, যা অতিরিক্ত রাজস্ব ফাঁকি রোধের মাধ্যমে আয়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। এনবিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেভিনিউ লিকেজ বন্ধ করা গেলে ভ্যাট ও আয়কর থেকে আরও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব। পাশাপাশি তারা বৈষম্যহীন কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও জানিয়েছেন—যেখানে বেশি আয়ের ওপর বেশি কর আর কম আয়ের ওপর কোনো চাপ থাকবে না। 


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন