আজ পালিত হচ্ছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস

আজ ২৫ নভেম্বর, দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। দুঃখ–বেদনা ও সচেতনতার এ দিনটি সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সকল নাগরিককে নিরাপদ ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে পালিত হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, নারী সংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সহিংসতার হার এখনো উদ্বেগজনক
সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, বাল্যবিবাহ এবং অনলাইন নিপীড়ন—সব ধরনের সহিংসতার মাত্রা এখনও উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ, বিচার না পাওয়ার ভয় এবং সামাজিক কলঙ্কের কারণে অনেক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, আইন শক্তিশালী হলেও বাস্তব প্রয়োগ ও ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
সরকারি উদ্যোগ
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ রাজধানীতে র্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং নির্যাতন প্রতিরোধে আইনগত করণীয় নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মানববন্ধন ও প্রচার কার্যক্রম।
সরকার বলছে, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল, হেল্পলাইন ১০৯, এবং সেফ হোম–সহ পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইন প্রয়োগ ও সময়মতো বিচার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সচেতনতা কার্যক্রমে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ছে
আজ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী, নারী সংগঠন ও সাধারণ জনগণ মানববন্ধন, পোস্টার ক্যাম্পেইন, পথনাটক এবং আলোচনার মাধ্যমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হ্যাশট্যাগ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রচার চলছে।
নারী সংগঠনগুলো বলছে, পরিবার ও সমাজের মানসিক পরিবর্তন, নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সহিংসতা পুরোপুরি কমবে না।
আইনজীবীদের পরামর্শ
আইন বিশেষজ্ঞদের মত, নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রথমেই নিকটস্থ থানায় জিডি বা মামলা করতে হবে। পাশাপাশি ১০৯ নম্বরে কল করে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা নেওয়া জরুরি। তারা বলেন, "নির্যাতনের ঘটনা ছোট হোক বা বড়—নীরব না থেকে আইনের সহায়তা নেওয়াই নিরাপত্তার প্রথম ধাপ।"
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দাবি
সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপ নয়—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, নারীকে সম্মান ও সমঅধিকার দেওয়ার মধ্য দিয়েই নিরাপদ সমাজ গড়া সম্ভব।
আজকের দিবসের তাৎপর্য
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়—এটি সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নিঃশব্দ প্রতিশ্রুতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনি কাঠামো সমন্বিতভাবে এগোলে নারীর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।