জুমার দিন ১০ আমল: যা কবুল হয় আল্লাহর কাছে

ইসলাম ধর্মে শুক্রবার বা জুমার দিনকে অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, এই দিন আল্লাহ আদম (আ.) সৃষ্টি করেছেন, তাকে দুনিয়ায় নামিয়েছেন এবং তাওবা কবুল করেছেন। এই দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। জুমার দিনে বিশেষ কিছু সময় এমন আছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল হয়। (সহিহ বুখারি: ৯৩৫)
কোরআন ও হাদিসের আলোকে শুক্রবারের বিশেষ ১০টি আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হোন
জুমার নামাজের প্রস্তুতিতে গোসল করুন, নখ ও গোঁফ কাটুন, দাঁত ব্রাশ বা মিসওয়াক করুন। পরিস্কার পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার করুন।
২. মসজিদে দ্রুত উপস্থিত হোন
জুমার নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে পৌঁছান। আজান শুরু হলে বেচা-কেনা বন্ধ করুন।
৩. মসজিদের দরজায় প্রথম আসার সওয়াব
হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা মসজিদের দরজায় প্রথম আসে, তাদের সওয়াব কোরবানি দেওয়ার সমান। (সহিহ বুখারি: ৯২৯)
৪. মসজিদের আদব রক্ষা করুন
খুতবার সময় অন্যদের কষ্ট না দিয়ে যথাসম্ভব সামনের কাতারে বসুন। কথা বলা বা অন্যের নামাজে বিঘ্ন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৫. নফল ও সুন্নত নামাজ আদায় করুন
খুতবা শুরু হওয়ার আগে তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। জুমার আগে ও পরে চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করুন।
৬. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনুন
খুতবার সময় চুপ থাকুন এবং কোনো অনর্থক কাজ বা কথা থেকে বিরত থাকুন।
৭. জুমার নামাজ আদায় করুন
জুমার দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো উত্তরূপে জুমার নামাজ। মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করুন।
৮. দরুদ পাঠ করুন
শুক্রবারে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন, কারণ এ দিন দরুদ পাঠ আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৩)
৯. আল্লাহর কাছে দোয়া করুন
জুমার দিনে বিশেষ মুহূর্তে দোয়া করলে তা কবুল হয়। হাদিসে বলা হয়েছে, এই সময় হলো খুতবার সময় ও আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। (সহিহ মুসলিম: ১৮৪৮, সুনানে নাসাঈ: ১৩৯২)
১০. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করুন
যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বৃদ্ধি পাবে। (সহিহুল জামে: ৬৪৭০)