ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় জেলেরা

মা ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ মধ্যরাত (৩ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে টানা ২২ দিনের ইলিশ আহরণ নিষেধাজ্ঞা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ভোলার দুই লক্ষাধিক মৎস্যজীবী। তবে শেষ মুহূর্তে কাজে লাগাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইলিশ শিকারিরা।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রি ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুসারে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলেরা মাছ ধরতে পারবেন।
নিষেধাজ্ঞার আগের দিন মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সরগরম দৃশ্য দেখা গেছে। কেউ জাল টেনে আড়তে মাছ জমাচ্ছেন, আবার কেউ নতুন আশায় নদীতে নামছেন। ঘাটে ঘাটেও চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে অধিকাংশ ফিশিং ট্রলার; জেলেরা নৌকা ও সরঞ্জাম নিরাপদে রাখছেন।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মৎস্য বিভাগ। ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকিং ও ঘাট সভা করে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে মাছের ঘাটতির কারণে কিছু জেলে হতাশ।
জেলেরা বলছেন, ইলিশের অভাবের কারণে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শিবপুর ঘাটের নাছির মাছির জেলে মফিজুল হক, নিরব ও মো. মনিরসহ অনেকে দাবি করেছেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে **সরকারি সহায়তা দ্রুত বিতরণ করা হোক।”
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ ফরাজি বলেন, “বিগত বছরের তুলনায় এবার মাছ অনেক কম মিলেছে। এতে জেলেরা বিপাকে পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞা শুরুতেই সরকারি সহায়তা বিতরণ জরুরি।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, “নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ২২ দিন নদীতে টানা অভিযান চালানো হবে।”
এর আগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, মোট ৩৭টি জেলার ১৬৫টি উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০ জেলে পরিবারকে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হবে। পরিবার প্রতি বরাদ্দ থাকবে ২৫ কেজি চাল। পুরো কার্যক্রমে মোট ১৫ হাজার ৫০৩.৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে।