সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা: নির্দেশ আছে, কার্যকারিতা নেই

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একাধিকবার একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, বারবার নিষেধাজ্ঞা দিলেও কার্যকর কোনো ফল মিলছে কি? বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, এর উত্তর ‘না’।
নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরও রাজনৈতিক দলগুলো রাস্তায় নেমেছে, যান চলাচল ভেঙে পড়েছে, জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। অর্থাৎ কাগজে-কলমে নির্দেশ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন ব্যর্থ। জনগণের দুর্ভোগ যেমন কমেনি, তেমনি আইনশৃঙ্খলার উন্নতিও হয়নি। ফলে নিষেধাজ্ঞা একটি প্রথাগত ঘোষণায় পরিণত হয়েছে, যার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রশ্ন জাগে, প্রশাসনের বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা আসলে নিরাপত্তার অজুহাত, নাকি দুর্বল ব্যবস্থাপনার আড়াল? যদি নিষেধাজ্ঞার পরও বিশৃঙ্খলা ঠেকানো না যায়, তাহলে এর অর্থ পুলিশি প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। গোয়েন্দা নজরদারি, রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিকল্প ভেন্যু চিহ্নিতকরণের ঘাটতি প্রকটভাবে ধরা পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অফিসগামী কর্মীরা প্রতিদিন জ্যামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন, জরুরি রোগী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, সাধারণ নাগরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নাগরিক অধিকার ও জননিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে না হচ্ছে নিরাপত্তা নিশ্চিত, না হচ্ছে অধিকার রক্ষা।
ডিএমপির উচিত কেবল নিষেধাজ্ঞা জারি করে দায়িত্ব শেষ ভেবে না বসে, বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখানো। নিষেধাজ্ঞা নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, আগাম পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান। অন্যথায় এ ধরনের নির্দেশ যতই দেওয়া হোক, তা বারবার ব্যর্থতার দলিলে পরিণত হবে।