বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • আসামির কাঠগড়ায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার ওসি মিজান

    আসামির কাঠগড়ায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার ওসি মিজান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠছে—অপরাধ দমন নয়, বরং পক্ষপাতিত্ব, দালালপ্রীতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার।

    মানবাধিকার কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট নিয়াজ মোহাম্মদ প্রথম প্রতিবাদ শুরু করেন ওসি মিজানের বিরুদ্ধে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি মিজান এমনকি আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও সহজে এফআইআর নিতেন না। বরং, দীর্ঘ সময় ধরে “তদন্তের” নামে অভিযোগ আটকে রেখে মামলা না করে বাদীর ক্ষতি করতেন—ফলে নষ্ট হয়ে যেত আলামত, সাক্ষ্য ও বিচারপ্রক্রিয়া।

    বাদী যদি ওসি মিজানের সাথে দেখা করতে যেতেন, তখন থানায় থাকতেন স্থানীয় নামসর্বস্ব রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় দালালরা। অভিযোগকারীদের বলা হতো, কোর্টে গিয়ে মামলা করতে। অথচ এসব দালালদের থানায় ছিল অবাধ যাতায়াত।

    ৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মীর মো. এমতাজুল হক এক মামলায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    এই মামলার বাদী তাসমিন ইয়াসমিন আদালতকে জানান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল ও সিন্ডিকেট বিরোধী আন্দোলন করার সময়, গত ১৯ আগস্ট তিনি ও তার সহকর্মীরা বরিশাল নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে পুলিশ তাদের আটক করে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে।

    ওসি মিজানসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সগীর হোসেন, এসআই সাইফুল ইসলাম, এসআই নাসিম বাইজিদ ও কনস্টেবল বিশ্বজিৎ। মামলায় অজ্ঞাত ১২ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

    এছাড়া বরিশালে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে “রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী” পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি কুদ্দুস অভিযোগ করেন—ওসি মিজান মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তার বিপক্ষ দল আশিক চৌধুরীর সঙ্গে গোপন চুক্তিতে কাজ করছেন এবং নগদ কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।

    আশিক চৌধুরীর স্ত্রী আমিনা বেগম সুমিও পুলিশের আইজিপি কমপ্লেইন সেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, যাতে বলা হয়—ওসি মিজান তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন, এমনকি ফ্ল্যাট ও দোকান দাবি করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মোতাবেক জমি উদ্ধারে সহায়তা না করে উল্টো বিরোধী পক্ষকে সহায়তা করছেন।

    অভিযোগ রয়েছে, বরিশাল কোতোয়ালি থানায় ওসি মিজান একজন বিএনপি নেতার কোটা থেকে বদলি হয়ে এলেও, তার কক্ষে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে আওয়ামী লীগপন্থী নেতা, দালাল ও এক নামসর্বস্ব স্থানীয় পত্রিকার ব্যক্তির। তাঁদের কেউ কেউ কাউন্সিলর প্রার্থীও ছিলেন।

    এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালতের নির্দেশ অনুসারে দুদক তদন্ত শুরু করলে, বিষয়টি নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন