হেলিকপ্টারে উড়ে কেপি শর্মা অলি কোথায় গেলেন?

আবারও আরেকটি জেন-জি বিপ্লবের ফলাফল এবার নেপাল দেখালো। মাত্র দুই দিনের মধ্যে দেশের শাসন ব্যবস্থা উল্টে-পাল্টে যায়। পদত্যাগপত্র লিখে হেলিকপ্টারে উড়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। ইতিমধ্যেই নেপালের সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে ক্ষমতাচ্যুত অলির গন্তব্যকে ঘিরে।
নেপালের অফিশিয়াল সূত্রে জানা গেছে, অলি সেনাপ্রধানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দেশের ক্রমাবনত পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান। এর জবাবে জেনারেল সিগদেল বলেন, সেনাবাহিনী কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করে দেশকে স্থিতিশীল করতে পারবে, যদি প্রধানমন্ত্রী অলি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দেন।
এ অবস্থায় পদত্যাগ লিখেন অলি। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেন, ‘মাননীয় প্রেসিডেন্ট, নেপালের সংবিধানের ৭৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর, দেশের বর্তমানে বিরাজমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংবিধান অনুসারে সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান এবং সমাধানের দিকে আরও পদক্ষেপ নেয়ার জন্য, সংবিধানের ৭৭ (১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে, আজ (মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর) থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
এরপর কিছুক্ষণ পরই হেলিকপ্টারে করে দেশ ছাড়েন কেপি শর্মা অলি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার গন্তব্য নিয়ে কোনও সুনিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তবে, কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হয়তো দুবাইয়েই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। (সূত্র: ফার্স্ট পোস্ট)
প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেয়া হয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলেও একপর্যায়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্টের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে শুরু হয় সংঘাত।
এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। এই আন্দোলনকে ‘জেন-জি রেভল্যুশন’ নাম দেন বিক্ষোভকারীরা।
দৈএনকে/জে .আ