দোহায় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সমর্থন পেল কাতার

কাতারের রাজধানী দোহা-তে ইসরায়েল হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবারের (৯ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা পুরো বিশ্বকে হতবাক করেছে। হামলার জবাবে কাতারের নেওয়া পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
এ অবস্থায় ফিলিস্তিনের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রাহমান বিন জসিম আল থানি। মঙ্গলবার হামলার কয়েক ঘণ্টা পর এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন বন্ধে যে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল, কাতারে সাম্প্রতিক হামলায় তা খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তবে এ ঘটনা দোহার কূটনৈতিক তৎপরতাকে প্রতিহত করতে পারবে না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাতারের কূটনীতি ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর আচরণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা কাতারের নিজস্ব পরিচয়ের অংশ এবং আজকের হামলা আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতাকে প্রতিহত করতে পারবে না।
গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য সম্প্রতি একটি খসড়া প্রস্তাব গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের কাছে পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবারের (৯ সেপ্টেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহার এক আবাসিক এলাকায় একটি ভবনে সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন হামাসের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র খলিল আল হায়াসহ হাইকমান্ডের অন্যান্য সদস্যরা।
তাদের এই আলোচনার মধ্যেই সেই ভবনটিকে লক্ষ্য বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। এতে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হামাস জানিয়েছে যে নিহতদের মধ্যে গোষ্ঠীটির উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতা নেই।
এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরাহমান বিন জসিম আল থানি বলেন, এই হামলা এবং এতে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে— এটা শুধু আন্তর্জাতিক আইনেরই নয়, নৈতিক মানদণ্ডেরও পুরোপুরি লঙ্ঘন। একটি মধ্যস্থতাকারী দেশে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে এবং সেখানে অকস্মাৎ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলো। কোন নৈতিক মানদণ্ডের অধীনে এটা গ্রহণযোগ্য? তবে আমরা ভয় পাইনি। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং এই অঞ্চলে বসবাসরত জনগণের শান্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাতার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশে ২০১৭ সাল থেকে কাতারে বসবাস করছেন হামাসের হাইকমান্ডের নেতারা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের শীর্ষ তিন মধ্যস্থতাকারী দেশের মধ্যে কাতার অন্যতম। বাকি দুই দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও মিশর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর একক সিদ্ধান্তে এ হামলা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
দৈএনকে/জে .আ