এক হাতে রিকশা চালান জাকির, জীবিকা চালাতে ছেড়েছেন পড়াশোনা

চরফ্যাসনে মাদ্রাজ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে বাড়ি জাকির হোসেনের, নাসির সর্দার ও নাসিমা খাতুন দম্পতির দুই ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে ছোট জাকির হোসেন। বয়স তার প্রায় ২২ বছর। বাম হাত অকেজো, তাই ডান হাতেই চলন্ত রিক্সা নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাকে। এক হাতেই রিক্সা চালিয়ে বৃদ্ধ বাবা মায়ের সংসার চালান জাকির !
এক হাতে রিক্সা কেন চালায়, অন্য হাতে কি সমস্যা, জিজ্ঞেস করলে জানান, বাবার মায়ের কাছ শুনেছি, আমার বয়স যখন ৫ বা ৬ মাস তখন টাইফয়েড জ্বরের প্রভাবে বাম হাত প্রায় অকেজো হয়ে যায়, আর্থিক কারণে সাথে সাথে পরিবার চিকিৎসা করাতে না পারায় ধীরে ধীরে অকার্যকর হয় আমার হাত।
জাকির বলেন, এক হাতের কার্যক্ষমতা হারানোর পর ৬ বা ৭ বছর বয়সে বাড়িতে এক দুর্ঘটনায় আমার পায়ের হাটুর জয়েন্ট খুলে যায়, যা এখনো পুরোপুরি সেরে উঠেনি।
এক হাতের উপর নির্ভর করে রিক্সা চালানো খুব কষ্টের ও ঝুঁকির, তার পরেও কেন এই পেশা আসলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সে বলে এসএসসি পাশ করার পর বৃদ্ধ বাবা মায়ের মুখে আহার তুলে দিতে এই পেশা বেচে নিয়েছি। অনেকেতো আপনার চেয়ে কম পঙ্গুত্ব নিয়ে ভিক্ষা করে চলে, প্রতিবেদক এমন কথা বলতেই , জাকির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, পঙ্গু ভাতা পাই, তবে আল্লাহ যে টুকু শারীরিক সক্ষমতা দিয়েছেন, তা নিয়েই সংগ্রাম করছি। কারো কাছে কিছু চাইতে আমার লজ্জা লাগে !
পড়াশোনায় আগ্রহ আছে কিনা জিজ্ঞেস করতেই জাকির বলে, নিজের জীবন চালাতে পারি না ঠিক মতো, পড়ার খরচ পাবো কোথায় !
এক হাতের উপর নির্ভর করে রিক্সা চালাতে গিয়ে সৃষ্ট সমস্যার কথা জানতে চাইলে, তিনি বলেন, ভাঙ্গা রাস্তায় যেখানে গর্ত থাকে সেখানে এক হাতে রিক্সা নিয়ন্ত্রণ করতে খুবই কষ্ট হয়, হাটুতে ব্যাথা থাকায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ও রাস্তার ঝাকুনিতে অসহনীয় কষ্ট হয়। তবুও অন্য কিছু করার উপায় কি? বৃদ্ধ বাবা মা ঋণের টাকায় রিক্সা কিনে আমাকে রাস্তায় চালাতে দিয়ে সারাক্ষণ টেনশনে থাকেন। রাস্তায় রিক্সা চালানোর কর্ম শেষে বাড়িতে গেলে দেখি আমাকে কাছে পেয়ে বাবা মায়ের চোখে মুখে সারা দিনের চিন্তার ভাজ কাটছে। বৃদ্ধ বাবা মা এই অবস্থায় আমাকে রাস্তায় দিতে চায়নি। বড় ভাই খাবার হোটেলে চাকরি করে, কোনমতে নিজের সংসার চালায়, ঘরে বসে থাকলে বাবা মামা সহ তিন জনের পেট চলবে কিভাবে, তাই বাবা মাকে বুঝিয়ে রাস্তায় রিক্সা চালানো শুরু করি।
রিক্সা চালিয়ে প্রতিদিন ৩-৪শ টাকা আয় হয়। মাঝে মাঝে শারীরিক অসুবিধায় পড়ে রিক্সা চালানো বন্ধ রাখি। এভাবেই জীবন কোনরকম চলছে! তবে তৃপ্তি এখানেই যে, কর্ম করে খাই, ভিক্ষা করা লাগে না।