জটিল রোগে ভুগছেন বিটিএস সদস্য জাংকুক

বিটিএসের জনপ্রিয় তারকা জংকুক ,যিনি তার গান দিয়ে বিশ্বব্যাপী চার্টে শীর্ষে রয়েছেন, সম্প্রতি ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকে অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) ধরা পড়েছে।

আমেরিকায় একটি মিউজিক ভিডিওর শুট করে দেশে ফেরার পর গায়ক এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। এক ভক্ত লাইভ চলাকালীন তার অস্থিরভাবে নাড়াচাড়া করা নিয়ে মন্তব্য করলে জাংকুক সরল ভঙ্গিতে বলেন, “আমার এই স্বভাবটা আছে। আমি এভাবেই নড়াচড়া করি।”

ওয়েভার্স লাইভ স্ট্রিমটি হালকাভাবে শুরু হয়েছিল, জাংকুক সোফায় বসে থাকার আগে ঘুরে বেড়াতেন, আড্ডা দিতেন এবং ভক্তদের সাথে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু একজন ভক্ত যখন তাকে এত বেশি নড়াচড়া বন্ধ করতে অনুরোধ করে একটি মন্তব্য করেন তখন সুর বদলে যায়। জবাবে, তিনি প্রকাশ করেন যে তার মধ্যে ADHD আছে, যার ফলে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে নড়াচড়া করেন।
ADHD কী?
এটি একটি স্নায়ু–সংক্রান্ত সমস্যা। এটি মনোযোগ ধরে রাখা, স্থির হয়ে বসা বা আকস্মিক প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে। সাধারণত শৈশবেই এর লক্ষণ শুরু হয়, তবে প্রাপ্তবয়সেও অনেকের মধ্যে তা থেকে যায়।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি অতিরিক্ত অস্থিরতা, এক জায়গায় স্থির হয়ে না বসতে পারা, মনোযোগের ঘাটতি, টাইম ম্যানেজমেন্টের সমস্যা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে চিকিৎসা ও সঠিক কৌশলের মাধ্যমে অনেকেই এর সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
জাংকুকের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি মুহূর্তেই ভক্তদের মন ছুঁয়ে যায়। মাসের পর মাস তার লাইভে স্বাভাবিক অস্থির আচরণ নিয়ে কটাক্ষ হচ্ছিল। অনেকে তাকে ‘চুপচাপ বসতে’ বলতেন। কিন্তু এবার ভক্তরা তার পাশে দাঁড়িয়ে জানান, অস্থিরভাবে নড়াচড়া করা বা ‘স্টিমিং’ আসলে ADHD–এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য, যা নিয়ে বিদ্রূপ করা উচিত নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের সমর্থন। কেউ লিখেছেন, “উনি যেভাবে স্বাভাবিকভাবে কথাটা বললেন, দারুণ লেগেছে। জাংকুক আর সুগা – দু’জনেই যেভাবে তাদের ADHD নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন, সেটা অসাধারণ।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এখন যারা অকারণে তাকে ‘চুপচাপ বসো’ বলছিলেন, তাদের থামা উচিত।”
দৈএনকে/ জে. আ