বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলল রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা

পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলল রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আবারও দেখা গেল দানের স্রোত। চার মাস ১৭ দিন পর আজ শনিবার সকাল ৭টায় খোলা হয় মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স। বাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে আসে টাকার স্তুপ, যেন টাকার পাহাড়। এসব টাকা ভরতে লাগে ৩২টি বস্তা।

মসজিদের দোতলায় চলে দিনভর গণনা কার্যক্রম। সকাল থেকে শুরু হয়ে টানা ১৩ ঘণ্টা গণনার পর রাত ৮টার দিকে শেষ হয় কাজ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা—যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দানের রেকর্ড। রাত সোয়া আটটার দিকে মসজিদ পরিচালনা কমিটি এ তথ্য নিশ্চিত করে।

গণনা কাজে অংশ নেন সাড়ে চার শতাধিক কর্মী। ছিলেন মসজিদের কর্মচারী, মাদরাসার ছাত্র, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন। নিরাপত্তায় ছিল সেনা, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা।

শুধু নগদ টাকা নয়, দানবাক্সে পাওয়া গেছে স্বর্ণালঙ্কার, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রাও। এবার প্রথমবারের মতো চালু করা হয় অনলাইনে দানের ব্যবস্থাও।

এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। এবারের সংগ্রহ সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন,
“মানুষ বিশ্বাস করে, এখানে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। অনেকে সুস্থতা ও মানসিক শান্তির জন্য দান করেন। শুধু মুসলমান নয়, সব ধর্মের মানুষই দান করে থাকেন। নগদ টাকার পাশাপাশি অনেকে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও দেন।”

তিনি আরও জানান, দান থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, “পুরো গণনা প্রক্রিয়া ছিল নিরাপদ ও স্বচ্ছ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই কাজ শেষ হয়েছে।”

মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের লভ্যাংশ থেকে ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের সহায়তা করা হয়। এ অর্থ দিয়েই চলছে একটি মাদরাসাও। বর্তমানে তহবিলে রয়েছে প্রায় শতকোটি টাকা। ভবিষ্যতে পাগলা মসজিদের সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনতলা বিশিষ্ট এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ শুধু ধর্মীয় নয়, কিশোরগঞ্জবাসীর বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্রস্থল। তিনটি গম্বুজ ও পাঁচতলা মিনারবিশিষ্ট স্থাপনাটি এখন দাঁড়িয়ে আছে মানুষের ভালোবাসা ও দানের অশেষ শক্তির প্রতীক হয়ে।


এন কে/বিএইচ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন