সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তফসিল নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ ইসির ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ জানাল ইএসডিও ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের
  • ফিরে দেখা ফ্যাসিস্ট জমানার ভোলা

    গণমাধ্যমকর্মী দাউদ ইব্রাহিম তোফায়েলের গুন্ডাদের হাতে আহত

    গণমাধ্যমকর্মী দাউদ ইব্রাহিম তোফায়েলের গুন্ডাদের হাতে আহত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দিনটি ছিলো ৪ আগস্ট ২০২১ সাল।  তখন তোফায়েল লীগের দৌরাত্ম ও সন্ত্রাসলীলার এক ভয়ঙ্কর জনপদ ছিলো ভোলা। সাংবাদিকরা ছিলো তার গৃহপালিত। প্রেসক্লাব ছিলো ওই গৃহপালিতদের আয়নাঘর। সেখানে গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বদলে চলতো তোফায়েলের চেলাচামুন্ডাদের নেশাবাজী আর নর্তকী নৃত্যের উম্মাদনা। যদি দু'একজন সংবাদকর্মী তার গন্ডির বাইরে যেতো, তখনি তার উপর চলে আসতো কেয়ামতের আজাব। আর তার অন্যায়কর্ম বিরোধী এমনি সাহসী গণমাধ্যমকর্মী দাউদ ইব্রাহিম। 

    ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাবেক ওই এমপি ও মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা স্বপন, মিলন,বাচ্চু'র নেতৃত্বে জেলাব্যাপী চলতে লুটপাট আর ত্রাসের রাজত্ব। সেই জমানায় এসব লুটেরাদের নানা পৈচাশিক ঘটনার তথ্য সংগ্রহে দিঘলদী ও বাংলাবাজার যান তরুণ সাহসী কলমযোদ্ধা দাউদ ইব্রাহীম ও তার সহযোদ্ধা বর্তমান এটিএন নিউজের সাংবাদিক ফরিদুল ইসলাম। নারী নিপীড়ন ও জুলুমবাজ এসব দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন তারা। তোফায়েলের লম্পট হায়েনাদের পাপের রাজ্যের খোঁজ পেয়ে সেখানে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। তোফায়েলর গুন্ডা বাহিনীর নির্মমতার শিকার হন দুই গণমাধ্যমকর্মী। হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতনের নির্মম স্টীম রোলার চালানো হয় তাদের উপর। এক পর্যায়ে তাদের গুম করে তোফায়েলের ভাতিজা সন্ত্রাসী স্বপনের টর্চারসেলে আটক রাখা হয় ইব্রাহীম ও ফরিদকে। অবর্ণনীয় নির্যাতনের পর অচেতন হয়ে পড়লে তারা মারা গেছে ভেবে তাদেরকে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। তখন পথচারীরা তাদেরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাদের জ্ঞান ফিরলে ভাতিজা মিলন দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভোলা থানায় মিথ্যা মামলা ঝুলিয়ে দেয়। তখন ভোলার গণমাধ্যমকর্মীরা থানায় ছুটে যান। মামলা না দেয়ার অনুরোধ করেন লম্পট মিলনকে। কিন্তু তখন সাংবাদিকদের সেই অনুরোধকেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানো হয়। মিথ্যে মামলায় জেল খাটতে হয় সাংবাদিক দাউদ ইব্রাহিম ও ফরিদুল ইসলামকে। 

    সাংবাদিক দাউদ ইব্রাহিম জানান, তোফায়েলের আত্মীয় নামের গুন্ডারা আমাকে এমনভাবে নির্যাতন চালিয়েছে যে,ওই হামলার ক্ষত আমাকে এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তিনি জানান, শুধু মামলা আর নির্যাতন করেই খ্যান্ত হননি তারা। ওই ঘটনার পর থেকে তোফায়েল বাহিনী দাউদ ইব্রাহিম পরিবারের উপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হামলা চালায়। তোফায়েল আহমেদের পরিবারের লোকজন সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তোফায়েল আহমেদের বাসার কাজের ছেলে হাসনাইন তার ফুফাতো ভাই স্থানীয় সন্ত্রাসী জাকির, জাফর জামাল ও ইউসুফকে সাথে নিয়ে তার বাবার উপর আক্রমন চালায়,তাকে প্রকাশ্যে হত্যার চেষ্টা করে। 

    বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে তার মা, ভাই ও স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করে এবং তার স্ত্রীর হাত ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ওইসব সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক দাউদ ইব্রাহিমদের পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে স্থাপনা তৈরী করে রেখেছে।  

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই জমি এখনো তোফায়েল বাহিনী দখলে রেখে তাদের গড়ে তোলা আস্তানায় রাষ্ট্র বিরোধী নাশকতার গোপন মিটিং করে থাকে। নদীর জলদস্যুরাও সেখানে মিলিত হয় বলেও একটি সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এসব সন্ত্রাসীদের আস্তানা এখনো ধ্বংস করা না হলে রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক  জীবনমানের জন্য এরা মারাত্মক হুমকির কারন হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। তাই এদের শেখর উপড়ে ফেলে এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন