বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • পঞ্চগড়ে ভরা বর্ষা মৌসুমে চলছে খরা

    পঞ্চগড়ে ভরা বর্ষা মৌসুমে চলছে খরা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের উত্তরের খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা পঞ্চগড়ে ভরা বর্ষা মৌসুমে চলছে খরা।ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায়, জমিতে পানি না জমায় আমন চারা রোপন করতে পারচ্ছেন না চাষিরা।এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলার কৃষকরা। প্রায় ২০ দিন যাপত এই জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি।এর মধ্যে  মাঝে মাঝে ছিটে ফোটা বৃষ্টি হলেও ফসলি জমিতে পানি জমেনি।

    বিগত বছরগুলোতে ১৫ আষাঢ়ের মধ্যে আমন ধানের চারা রোপনের ধুম পড়লেও এবারে এর ব্যতিক্রম হয়েছে। পানির অভাবে এবারে এখন পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলার কৃষকরা জমিতে আমন ধানের চারা রোপন কার্যক্রম শুরুই করতে পারেনি।পানির অভাবে খাঁ খাঁ করছে ফসলি মাঠ।

    দেশের দক্ষিনাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিলেও উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ভিন্ন চিত্র।আবহাওয়ার এই বৈরীপ্রভাবে এবারে আমন চাষে শঙ্কিত পঞ্চগড়ের কৃষককুল। চলছে আষাঢ় মাস। ভরা বর্ষার মৌসুম। তবুও এ অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির দেখা নেই । বর্ষাকালেও দিনের বেলা প্রচন্ড তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে গেছে পঞ্চগড়ের আমন ধান চাষের জমিগুলো। পানির অভাবে আবাদযোগ্য জমিগুলোতে হালচাষ করতে পারচ্ছেনা না চাষীরা। খরায় পতিত জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

    চলতি এই ভরা বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রোপা আমন চারা সময় মতো জমিতে রোপন করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ জেলার কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আষাঢ়ের এই সময়ে যেসব জমিতে পানি থৈই থৈই করেত,সেসকল ফসলি মাঠ এখন পানির অভাবে খাঁ খাঁ করছে,অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।কিছু সংখ্যক কৃষক দহলা বা নিচু কিছু জমিতে সেচের মাধ্যমে আমন চারা রোপন করছে।

    জেলার বোদা উপজেলার বোসপাড়া গ্রামের কৃষক তছলিম উদ্দিন জানান,গত বছর ১৫ আষাঢ়ের মধ্যে আমন চারা রোপন করেছিলাম,এবারে জমিতে পানি না জমায় এখনো জমি হালচাষ করতে পারিনি। সময় মতো আমন চারা রোপন করতে না পারলে ফলন কম হবার শঙ্কা রয়েছে।বালাভীড় গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন,অনাবৃষ্টির কারণে আমন চাষে  দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় জমিগুলো শুকিয়ে গেছে। পানির অভাবে জমিতে হালচাষ করা যাচ্ছেনা।

    এদিকে বীজ তলায় আমন ধানের চারাগুলো রোপনের উপযোগী হয়ে উঠেছে। একই গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, আষাঢ় মাস শেষের দিকে। ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। এই আষাঢ় মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, সে পরিমান বৃষ্টিপাত এবার হয়নি। আকাশে বৃষ্টি জমলেও ভারি বৃষ্টির দেখা মেলেনা।

    এই সপ্তাহের মধ্যে ভারি বৃষ্টি না হলে সেচের মাধ্যমে আমন রোপন শুরু করতে হবে, এতে উৎপাদন খরচ অনেকটা বেড়ে যাবে।পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেছেন, মৌসুমী বায়ু নিষ্ক্রিয় থাকায় পঞ্চগড়ে ভারী বৃষ্টি এখনো হয়নি। তবে  জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।  আগামী  সপ্তাহে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে।  

    পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন,আমন চাষের যথেষ্ট সময় রয়েছে,আশাকরি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হবে।বৃষ্টি নামলে পুরোদমে আমন চাষ শুরু হবে। তিনি জানান,এবারে পঞ্চগড় জেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৪   মেট্রিক টণ ধান।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন