সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • শিক্ষায় আমূল সংস্কারের পথে চীন, সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে জাপান-তুরস্ক-সৌদি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ২০২৯ সালে মাতারবাড়ী বন্দরে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য কুমিল্লায় রিজেনেক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা সংবিধানের মৌলিক সংশোধন গণভোটে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত আসামে সমাবেশের আগে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাসহ কয়েকজন আটক বিদেশে পাঠানোর নামে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির হাতে নারী গ্রেপ্তার জাসদ কার্যালয়ে হামলা-মবের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চায় আসক আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ আইনমন্ত্রীর
  • ২০২৯ সালে মাতারবাড়ী বন্দরে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য

    ২০২৯ সালে মাতারবাড়ী বন্দরে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বড় আকারের জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধা থাকায় পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয়ও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন’।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে আরও প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ অতিরিক্ত সক্ষমতার প্রয়োজন হবে। এই বাড়তি চাপ সামলাতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বন্দরে ৮ থেকে ১০ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ এবং প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধা থাকবে বলে জানানো হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নীতি, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সুফল পেতে হলে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। শুধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থন কিংবা আইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ জাহাজ চলাচল, আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, দেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু, সক্ষমতা বাড়ানো এবং পণ্য খালাসের সময় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ও পরিবেশবিধি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    নৌপরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের নাবিকেরা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সম্পদ। তাঁদের প্রশিক্ষণ, সনদায়ন, কল্যাণ এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ রোধ এবং নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতেও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম বলেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বন্দর, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ, অফশোর সম্পদ এবং ব্লু ইকোনমির বিকাশের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশ প্রয়োজন।

    অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দেশের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করে সমন্বিত বহু মাধ্যমভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের অগ্রগতির বিষয়ে বলা হয়, হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান বজায় রেখে এ খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাসক্ষম করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এ ছাড়া তেল ও বাংকার দূষণজনিত ক্ষতিপূরণ এবং জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণসংক্রান্ত তিনটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে জাতীয় আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা আধুনিকায়নের কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

    সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার গ্রিনভয়েজ ২০৫০ কর্মসূচির সহায়তায় জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কম কার্বন নিঃসরণকারী জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, বন্দরের কার্যক্রমে বিদ্যুতায়ন এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সরকারি কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, জাহাজমালিক, নাবিক এবং সামুদ্রিক খাতের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন