১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লঞ্চভাড়া বাড়ল ২৩ পয়সা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এবার নৌপথে লঞ্চের ভাড়াও সমন্বয় করা হয়েছে। প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং এর বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চমালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতে পড়লেও যাত্রীদের ওপর যেন অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাড়া বৃদ্ধির হার যতটা সম্ভব কম রাখা হয়েছে। লঞ্চমালিকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া সমন্বয়ের পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রথম ১০০ কিলোমিটারের জন্য যে হারে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে, তার পরবর্তী দূরত্বের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হারে ভাড়া বাড়বে। নৌপথে সর্বনিম্ন ১০ কিলোমিটার দূরত্ব ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করা হয়েছে।
রেলের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং ভাড়া না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গতবার ডিজেলের দাম বাড়ার সময়ও রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। প্রায় ১০ বছর ধরে রেলের ভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে। এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রেলও চাপে পড়েছে। তবে এখনো ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে সড়কপথে বাসের ভাড়া বাড়ানোর পর নির্ধারিত ভাড়া আদায় হচ্ছে কি না, সেটিও সরকার নজরদারিতে রেখেছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম। বাসমালিকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন এবং এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভাড়ার চার্ট অনুসারেই অর্থ আদায় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তবে কোনো বাসে রুটভিত্তিক ভাড়ার তালিকা না টাঙানো বা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী।
সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। শেখ রবিউল আলম বলেন, সিএনজির দাম বাড়েনি, তাই এসব যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো কারণ নেই। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবহন খাতে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাত্রী ও মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো পক্ষকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সবার অধিকার বিবেচনা করলেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।