ডিবি সেজে জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায়: সাভারে জিয়া প্রজন্ম দলের নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার

ঢাকা জেলার সাভারে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক যুবদল সমর্থিত সংগঠনের নেতা ও একজন ছাত্রদল কর্মী রয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাঁদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীদের জোড়পূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া ৪টি স্ট্যাম্প ও ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন-জিয়া প্রজন্ম দল সাভার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল (২৩) এবং ছাত্রদল কর্মী মো. রাসেল ওরফে রোহান (২২)। উভয়েই মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের বয়ান থেকে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের কাজী মোকমাপাড়া এলাকায় অসুস্থ বন্ধু সঞ্জয় মণ্ডলের খোঁজ নিতে যান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাব্বি খান। রাত সাভার ৯টার দিকে রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই বাসায় হানা দেয়। ঘরে তল্লাশির নাটক সাজিয়ে তাঁরা উপস্থিত সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আশরাফুল নামের আসামি সুইচ গিয়ার চাকু বের করে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরপর আড়াই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে—এমন মর্মে জোরপূর্বক ৪টি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাব্বির পরিচিত জনরা উদ্ধার করতে এলে তাঁদের কাছ থেকেও এটিএম বুথ ও বিকাশ-নগদ থেকে নগদ টাকাসহ মোট ২৯ হাজার ৫ শত টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় তারা।
এ ঘটনায় মো. রাব্বি খান বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে সত্যতা মেলায় পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। মামলার অপর আসামিরা হলেন—আব্দুল্লাহ (২২), হিরা (২৪) ও নাজমুল (২০)।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারকৃতরাসহ চক্রের বাকি সদস্যরা এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় এবং নারী দিয়ে ফাঁদে ফেলে ব্লাকমেইলের মতো অপরাধে জড়িত। ডিবি পরিচয়ে চাঁদাবাজির মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তারে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, "ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই মামলা নেওয়া হয়েছে। ১ ও ২ নম্বর আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে রয়েছে।"