যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৫

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূ সুখী মনিরকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার স্বামী শামীম মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটের পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শামীম মিয়া (২৪), সাজু মিয়া (৫০), আফরোজা বেগম (৪৬), সাথী বেগম (২২) ও আমিনুল গাটিয়া (৬০)।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়া উপজেলার চিল্লানির মাজার এলাকার বাসিন্দা শামীম মিয়ার সঙ্গে ২০২৪ সালে সুখী মনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সুখী মনিকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশও হয়।
এসআরবির কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে যৌতুকের দাবিতে সুখী মনির ওপর আবারও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রাত দেড়টার দিকে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সুখী মনির মৃত্যুর খবর তার পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহের গলায় কালো দাগ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের মা রওশন বেগম বাদী হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মালিপুকুরী গ্রামে অভিযান চালিয়ে সাথী বেগম ও আমিনুল গাটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল ৬টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিরাম গ্রামে অভিযান চালায় এসআরবি। সেখান থেকে আত্মগোপনে থাকা মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মিয়া, সাজু মিয়া ও আফরোজা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গঙ্গাচড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।