আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত্যু বেড়ে ৯: আসামির তালিকায় নেই মালিকপক্ষ

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় প্রীতি গ্রুপের 'এস সূহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক' চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি 'অপরাধজনক নরহত্যা'র মামলা দায়ের করলেও তাতে কারখানার মালিকপক্ষের কাউকে আসামি করা হয়নি। বেতনভুক্ত ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
প্রসঙ্গত গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে কারখানা চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী লরিতে হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও ৭-৮টি গাড়িতে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গ্যাস সিলিন্ডার ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে গিয়ে আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও টিনের চালা ভেদ করে ঘরে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ৬ জন মারা যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। আগুনে দগ্ধ ও আহত হন অন্তত ২৫ জন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তালেব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রীতি গ্রুপের জিএম মো. সোহেল রানা, এজিএম মো. মহিউদ্দিন, ম্যানেজার মো. মোজাম্মেল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. রাজীব হোসেন এবং দুই হেলপার মো. আল আমিন ও মো. এনামুলসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।
তবে মামলায় কারখানার মালিকপক্ষের সিইও রাজীব আহমেদ তালুকদার পিয়াল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রেজিন আহমেদ তালুকদার কিংবা ডিরেক্টর পারভীন তালুকদারের নাম না থাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, সিইও রাজীব আহমেদ তালুকদার সাবেক যুবলীগ নেতা এবং তাঁর মা পারভীন তালুকদার আওয়ামী লীগের সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য।
মালিকপক্ষকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনায় মালিকপক্ষের মূল দায়িত্ব থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানানো যৌক্তিক নয়; সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মালিকদের দায়ও খতিয়ে দেখা উচিত।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে যাদের সরাসরি অবহেলা পাওয়া গেছে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে পুলিশ অবগত নয় দাবি করে তিনি বলেন, মামলায় অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে এবং তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা ও গাফিলতি মিলবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
বর্তমানে কারখানা চত্বরে বিপজ্জনক গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কিনা—সেসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই মামলার তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।