সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

রেড বুল-স্টিংসহ জনপ্রিয় পানীয়ের লেবেল বদলাতে নির্দেশ ভারতের

রেড বুল-স্টিংসহ জনপ্রিয় পানীয়ের লেবেল বদলাতে নির্দেশ ভারতের
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

উচ্চ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে বাজারজাত করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত। দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফএসএসএআই) পেপসি, রেড বুল, মনস্টার বেভারেজ, রিলায়েন্স ও হেল এনার্জিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের লেবেল থেকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ শব্দটি সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছে।

সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতে এ ধরনের পানীয়ের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। গবেষণা সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এই বাজারের আকার ১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

জুলাইয়ের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এফএসএসএআই জানায়, এনার্জি ড্রিংক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির মতে, ভারতে এ ধরনের পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই এবং এগুলোকে ‘শরীর ও মন চাঙ্গা করে’ বা ‘দুর্বলতা দূর করে’—এমন দাবি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও কঠোর নির্দেশনা দেয়। কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে পণ্যের মোড়ক, লেবেল ও প্রচারণা থেকে ‘এনার্জি ড্রিংক’ বা একই ধরনের বর্ণনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

এফএসএসএআইয়ের প্রধান নির্বাহী রাজিত পুনহানি সম্প্রতি শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানান, ব্যবসায়িক ক্ষতির যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এফএসএসএআই কিংবা রাজিত পুনহানির আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পেপসিও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্য কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, শিল্পখাত শেষ পর্যন্ত লেবেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোকে ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের পানীয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের মতে, এসব পানীয়ে অতিরিক্ত ক্যাফেইন, চিনি ও টরিন থাকায় নিয়মিত সেবনে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের পণ্যের বিক্রি ও বিপণনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

ভারতে ২০১৭ সালে পেপসির স্টিং বাজারে আসার পর এনার্জি ড্রিংকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। বিশেষ করে কম দাম হওয়ায় তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোমনিটরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে এই খাতের বিক্রি প্রতিবছর প্রায় ১০০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

এদিকে সরকারি তদারকির অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজস্থান থেকে স্টিং, ক্যাম্পা এনার্জি ও রেড বুলের হাজার হাজার বোতল জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট, ব্লিনকিট ও সুইগির মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে এসব পণ্য ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: রয়টার্স
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন