সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, নতুন শিশু হাসপাতাল স্থাপন এবং ক্যানসার ও কিডনি রোগের চিকিৎসা জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। শুধু হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের বহু পদ শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধান নয়, সারা দেশের চিকিৎসক ও শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার পর এবারই স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকার চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোগের প্রকোপ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিকভাবে ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশা মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের প্রতীক। দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, ই-জার্নাল ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণের পরিবেশ উন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। এছাড়া হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।