বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী জিয়াউর রহমান হত্যা তদন্ত কমিশনের অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে কী আছে হাম কেড়ে নিল আরও ৩ শিশুর প্রাণ যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেগুলেটরি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ, ডিএসইর কাছে জবাব চাইল বিএসইসি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা ভারত-চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই
  • জলবায়ু পরিবর্তনে চাপে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তায় বাড়ছে শঙ্কা

    জলবায়ু পরিবর্তনে চাপে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তায় বাড়ছে শঙ্কা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশের কৃষি আজ একাধিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে দ্রুত কমছে আবাদযোগ্য জমি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, যা দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত জমিতে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে উন্নত বীজ, সুষম সার, জৈব সার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ, একাধিক ফসল চাষ এবং জমির ওপর বাড়তি চাপের কারণে মাটির উর্বরতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘস্থায়ী খরা, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো সমস্যায় কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের ফলে অনেক জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, যা কৃষকের উৎপাদন ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    পরিবেশবিদদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৬০ লাখ হেক্টর উর্বর জমি মরুকরণের কারণে অনুর্বর হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও নগরায়ণ, শিল্পায়ন, ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে আবাদি জমি কমছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    গবেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে দেশের প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। আবার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় অনেক কৃষিজমি স্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, নিয়মিত মাটি পরীক্ষা, সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার এবং জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ভেজাল সার, নিম্নমানের বীজ ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

    বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) টেকসই কৃষি ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় সমন্বিত নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    কৃষি খাতকে টেকসই রাখতে জৈব সার উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল ফসলের সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতায় কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এখনই কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন