নদী খননের মাটিতে দুর্ভোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী খনন থেকে উত্তোলিত মাটি ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
প্রকল্পের বাসিন্দাদের ভাষ্য, ঘরের পেছনে বিপুল পরিমাণ মাটি জমে যাওয়ায় অনেক টয়লেট অচল হয়ে পড়েছে। সেপটিক ট্যাংক মাটিচাপা পড়ে যাওয়ায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবারকে খোলা জায়গায় অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সেই সুযোগও থাকে না, ফলে খাদ্যসংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
বাসিন্দারা জানান, মাটির চাপে বেশ কয়েকটি ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও টিনের চাল ও রান্নাঘরের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়েছে। অনেক পরিবার অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজ উদ্যোগে মাটি সরানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভদ্রা নদী খননকাজ চলাকালে পরিকল্পনাহীনভাবে মাটি ফেলার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি সরানোর সময় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ১২৫টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের সহায়তায় অধিকাংশ মাটি ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঘরগুলো তাৎক্ষণিক ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক বলেন, যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান নদী খনন প্রকল্প জনস্বার্থে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের কারণে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ভদ্রাসহ ছয়টি নদীর প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খননকাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে নদীর তীরে মাটি সংরক্ষণ করায় বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের কয়েকশ পরিবার বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।