বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজের গুলি, উদ্বেগ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ও শনাক্ত রোগী বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কৃষিখাত হবে উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ভয়ংকর এল নিনোর সতর্কতা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শুরু হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার বড় সংস্কার: শিক্ষামন্ত্রী মুন্সিগঞ্জে পুলিশ গুলির ঘটনায় শ্যামলকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে অর্থ পাচার, সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী ব্যাটিং বিপর্যয়ে চট্টগ্রামে ১৩১ রানে অলআউট বাংলাদেশ তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক, সহায়তা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ঘোষণা

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার ঘোষণা
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারকে (MoU) পৌঁছানোর দাবি উঠেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তৈরি এই কাঠামো চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তি ও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সামরিক সংঘাত হ্রাসের পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে স্বাভাবিকতা ফেরার আশা করা হচ্ছে।

    তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এটিকে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সমঝোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে, এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

    অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে।

    সব পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী বলেছেন, স্বাক্ষরের পরই পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করা হবে।

    চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এছাড়া পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানি বন্দরের ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রণালিটি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে বলে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ

    প্রস্তাবিত সমঝোতায় ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ স্থগিত রাখবে। ভবিষ্যৎ পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আওতায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের ওপর শক্তিশালী পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে, তবে এর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

    নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ

    খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তিতে জাতিসংঘ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

    ইরানি সূত্র জানিয়েছে, জব্দকৃত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আংশিকভাবে মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর, ক্রেডিট লাইন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    তবে মার্কিন পক্ষ বলেছে, ইরানকে কোনো সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করা হবে না।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও লেবানন ইস্যু

    প্রস্তাবিত কাঠামোতে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করে। ইরানের নিরাপত্তা পরিষদও জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে লেবাননসহ সব এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে।

    তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া ও গাজার কিছু নিরাপত্তা এলাকায় অবস্থান বজায় রাখবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোর মধ্যে অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রাথমিক সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এটি এখনো একটি খসড়া পর্যায়ের কাঠামো, যার বাস্তবায়ন, স্বাক্ষর ও রাজনৈতিক অনুমোদনের ওপরই এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন