কান্না কি সত্যিই স্ট্রেস কমায়? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

কান্নাকে সাধারণত দুঃখ বা মানসিক দুর্বলতার প্রকাশ হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি শরীর ও মনের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
গবেষণা বলছে, আবেগের কারণে যে কান্না হয়, তাতে শরীরের ভেতরে জমে থাকা স্ট্রেস হরমোন এবং কিছু রাসায়নিক উপাদান বের হয়ে যায়। ফলে সাময়িকভাবে হলেও মানসিক হালকা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এই ধরনের কান্না মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা ব্যথা কমানো ও মেজাজ ভালো করতে ভূমিকা রাখে।
কান্নার সময় শরীর ধীরে ধীরে ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যার ফলে হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং শরীর শান্ত অবস্থায় ফিরে যায়। তবে কান্না চেপে রাখলে মানসিক চাপ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঘন ঘন বা অকারণে কান্না হলে বা তা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে এটি বিষণ্ণতা বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হার্ভার্ড হেলথের মতে, কান্না একটি “সেফটি ভালভ” হিসেবে কাজ করে, যা আবেগের ভার হালকা করতে সাহায্য করে। এটি শুধু মানসিক স্বস্তিই নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কেও সহানুভূতি ও ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।