অতিরিক্ত চিনি কি ক্ষত সারতে দেরি করায়? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ক্ষত দ্রুত সেরে উঠতে চিনি কম খাওয়ার পরামর্শ অনেকেই দিয়ে থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এ পরামর্শের পেছনে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। যদিও ক্ষত নিরাময় বিলম্বিত হওয়ার একমাত্র কারণ চিনি নয়, তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এবং দীর্ঘসময় রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা ক্ষত সারার প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষত নিরাময় একটি জটিল জৈবিক প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত রক্তসঞ্চালন এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এসবের যেকোনো একটি ব্যাহত হলে ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগতে পারে।
অতিরিক্ত চিনি শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা নতুন টিস্যু গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামতের কাজে বাধা দেয়। ফলে ক্ষত নিরাময়ের স্বাভাবিক গতি কমে যায়।
এছাড়া দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালীর ক্ষতি হতে পারে। এতে ক্ষতস্থানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করা শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতাও কমে যায়, যা ক্ষত সারার সময় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গবেষণা কী বলছে?
Burns & Trauma জার্নালে প্রকাশিত ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ক্ষত নিরাময়ের প্রতিটি ধাপে গ্লুকোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে গ্লুকোজের ভারসাম্য নষ্ট হলে, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়। এতে ক্ষত সারতে দেরি হয় এবং সংক্রমণসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তবে সব ধরনের চিনি একইভাবে ক্ষতিকর নয়। ফল, শাক-সবজি ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। অন্যদিকে কোমল পানীয়, ক্যান্ডি ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মিষ্টিজাত খাবারে থাকা সংযোজিত চিনি বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
ক্ষত দ্রুত সারাতে কী খাবেন?
চিকিৎসকরা বলছেন, ক্ষত, আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হতে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, পূর্ণ শস্য, ফলমূল ও শাক-সবজি রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং সুষম খাদ্যের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।