সাকিবের জাতীয় দলে ফেরার পথে দুটি প্রধান শর্ত: মামলা নিষ্পত্তি ও ফিটনেস যাচাই

সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী ও সাকিব আল হাসান ভক্তরা আশা করেছিলেন, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে, নিজ দেশে ঘুরবে-ফিরবে, অনুশীলন করবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবে।” কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের দেশে ফেরার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের সফল রূপকারদের পক্ষ থেকে।
দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসা সাকিব আল হাসানের জন্য এই প্রতিকূল পরিস্থিতি অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশপ্রেম ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক ও আন্দোলনমূলক কারণে তাঁর প্রত্যাশিত ফেরার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটও তার ফেরার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সাকিবের ফেরার সময় এবং জাতীয় দলের সঙ্গে তার পুনর্মিলন এখন অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা থাকা সাকিব আল হাসান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। তার দেশে ফেরার পথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং অন্য পক্ষের বাধা ছিল মূলত রাজনৈতিক ও আইনি কারণে। সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল, সাকিব ঘরে ফিরে নিজ দেশে অনুশীলন করবেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
দেশে ফেরার বাধার কারণ
১. রাজনৈতিক কারণে বাধা:
সাকিবকে আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে দেখানো হয়, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা দেশের বাইরে থাকায় ও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তার দেশে সাধারণ জীবনযাপন ও ক্রিকেট খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই কারণে তাকে দেশে আনতে তৎপর হননি।
২. আইনি বাধা:
সাকিবের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনের চোখে তিনি একজন অভিযুক্ত। দেশে ফেরার অর্থ হলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকত।
এসব কারণে ১৮ মাসের বেশি সময় তিনি দেশের বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক ও বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি/টি-টেন লিগ খেলেছেন।
দেশে ফেরার প্রক্রিয়া
বর্তমানে সাকিবকে দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এখন হত্যা মামলায় নিষ্কৃতি ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সরকারের দায়িত্ব। ধারণা করা হচ্ছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্দোষ ঘোষণার পরই দেশে ফিরতে পারবেন।
জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি
দেশে ফিরলেও সরাসরি জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নয়। সাকিবকে একই নিয়ম মেনে ফিটনেস ও পারফরম্যান্স যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানিয়েছেন, অন্যান্য ক্রিকেটারের মতো নির্বাচকরা তার শারীরিক সক্ষমতা, নেট অনুশীলন ও ঘরোয়া টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স যাচাই করবেন।
এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রভাবিত সিরিজ
১১ মার্চ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ
মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ
এই সিরিজগুলোতে সাকিবের খেলার যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হবে, তিনি আবারও জাতীয় দলে খেলতে সক্ষম কি না।
সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারছেন, তবে জাতীয় দলে ফিরতে হলে তাকে শারীরিক ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং আইনি জটিলতা সমাধান সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। সরাসরি দলে ঢোকা নয়, নিয়মিত যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে তাকে আবার দলে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।